কপোতাক্ষ নদ তীরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার উদ্যোগ নিলেও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে কচ্ছপ গতিতে। জলাবদ্ধতা নিরসনে গত তিন বছরেও পাখিমারা বিলে জোয়ারাধার (টিআরএম) চালু করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এ জন্য জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি জমে কপোতাক্ষ নদ ও এর সংযোগ নদী শালিখা পুনরায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে চলতি বছরেও কপোতাক্ষ তীরে জলাবদ্ধতার আশংকা করছে এলাকাবাসী। এদিকে মাত্র এক দিনের বৃষ্টিতে হাঁটু পানি জমে থাকা তালা উপজেলা পরিষদ চত্বর দেখে আশংকা করা হচ্ছে বন্যা কিংবা জলাবদ্ধতার।
পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, কপোতাক্ষ খনন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই জোয়ারাধারভুক্ত (টিআরএম) এলাকায় পানি উঠানোর স্থানে পলি জমে নদের তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে। এতে জোয়ারাধার (টিআরএম) প্রকল্প বাস্তবায়ন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে বৃষ্টির পানি জমে পাইকগাছা, তালা ও কেশবপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশংকা থেকেই যাচ্ছে। জোয়ারাধার হলো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকদের শত শত বছরের পুরোনো নিজস্ব উদ্ভাবিত একটি কৃষি পদ্ধতি। অতীতে কৃষকরা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাঁধ দিয়ে লোনাপানি ঠেকিয়ে আবাদ করতেন। আবাদ শেষে বাঁধ কেটে জোয়ারে পলি তুলে বিল উঁচু করে নিতেন। এর নাম অষ্টমাসী বাঁধ। মাঘী পূর্ণিমায় বাঁধ দিয়ে আষাঢ়ে পূর্ণিমায় তা খুলে দেয়া হতো। এভাবে একসঙ্গে চলত চাষাবাদ ও ভূমি গঠনের কাজ।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দপ্তর থেকে জানা যায়, জোয়ারাধার চলাকালে ঐ বিলে কোনো ফসল হবে না। এ কারণে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পাউবো। কিন্তু এখন পর্যন্ত জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে প্রথম বছরের জোয়ারাধার (টিআরএম) প্রকল্প এখনও চালু হয়নি প্রকল্প এলাকায়। পাউবো কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ঘের মালিকসহ একটি গোষ্ঠীর বাধার কারণে এখনও শুরু করা যায়নি। তবে এ সমস্যা সমাধান করে খুব দ্রুত এর সমাধান করা হবে।
কপোতাক্ষ তীরের বাসিন্দা বালিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন,‘কবে থেকে শুনতেছি বিলে টিআরএম হবে। তিন বছর পার হলেও এখনও টিআরএম কার্যক্রম শুরু হয়নি। ওরা (পাউবো কর্মকর্তারা) গাড়িতে আসে, গাড়িতে চলে যায়।’ একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন জানান, টিআরএম চালু করতে যে কাজ করা হচ্ছে, তা নদীর পলিতে আবারও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য চলতি বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় জলাবদ্ধতার আশংকা রয়েছে এলাকায়। খেশরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম লিয়াকত হোসেন বলেন, টিআরএম প্রকল্প চালু না করে খনন কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এজন্য চলতি বছর মৌসুমেও জলাবদ্ধতার আশংকা রয়েছে। যে কোনো মূল্যে টিআরএম প্রকল্প চালু করার দাবি জানান তিনি।
খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু জানান, কপোতাক্ষ নদ খননে ধীরগতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে তালা উপজেলার মানুষ চলতি বছরও বন্যায় ভাসবে। এর দায়-দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকেই নিতে হবে।
তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেএসডির কেন্দ্রীয় সদস্য মীর জিল্লুর রহমান বলেন, টিআরএম চালু করে নদ খনন করার কথা থাকলেও পাউবো তা করেনি। তারা অপরিকল্পিতভাবে খনন করছে। যে কারণে খননকৃত স্থানে পলি পড়ে নদ পুনরায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য চলতি বছরেও জলাবদ্ধতার আশংকা রয়েছে কপোতাক্ষ পাড়ে।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান বলেন, টিআরএম চালু করার চেষ্টা চলছে। তবে কবে চালু করা হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
