অনেক জল্পনা-কল্পনার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কোর মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে উভয় নেতাই পূর্ব ইউক্রেনে অবিলম্বে রক্তক্ষয় বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্রান্সে গত শুক্রবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালের স্মরণীয় ডি-ডের ৭০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে আরো অনেক বিশ্বনেতার পাশাপাশি পুতিন ও পোরোশেঙ্কোও উপস্থিত ছিলেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাদ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেলের চেষ্টায় পুতিন ও পোরোশেঙ্কোর মধ্যে ১৫ মিনিটের ঐ বৈঠকটি হয় বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ক্রিমিয়া রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম বৈঠক। বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এবং জার্মানির চ্যান্সেলরও উপস্থিত ছিলেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পোরোশেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠক করা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গেও ১০-১৫ মিনিটের একটি বৈঠক করেছেন পুতিন।
সংক্ষিপ্ত ওই বৈঠকে পুতিন ও পোরোশেঙ্কো পূর্ব ইউক্রেনে অবিলম্বে রক্তক্ষয় বন্ধ করা ছাড়াও দু’পক্ষের সামরিক তত্পরতা বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পন্থায় অগ্রসর হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই বলেও দু’নেতা একমত হন। সঙ্কট কাটানোর সম্ভাব্য উপায়সহ মস্কো কিভাবে পোরোশেঙ্কোকে স্বীকৃতি দিতে পারে সে বিষয়টি নিয়েও আলাপ হয় বলে ফ্রান্সের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। পুতিনের সঙ্গে ১৫ মিনিটের এক বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট পোরোশেঙ্কো বলেছেন, তার বিশ্বাস অচিরেই মস্কো তাকে স্বীকৃতি দেবে। উল্লেখ্য, শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার শপথ নেয়ার কথা রয়েছে তবে দুই নেতা যখন বৈঠক করছিলেন তখনও পূর্ব ইউক্রেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে রুশ বিদ্রোহীদের লড়াই অব্যাহত ছিল। শুক্রবার স্লোভিয়ানস্কে একটি সামরিক রসদ বহনকারী একটি সরকারি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করে বিদ্রোহীরা। এর আগে শহরে ট্যাঙ্ক নিয়ে হামলা চালায় ইউক্রেনীয় সেনারা।
এদিকে ইউক্রেন সঙ্কটের সমাধান চাইলে রাশিয়াকে অবশ্যই দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কোকে স্বীকৃতি দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বারাক ওবামা। শুক্রবার এক টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে এ কথা দাবি বলেন তিনি। এনবিসি নাইটলি নিউজকে দেয়া সাক্ষাত্কারে ওবামা বলেন,‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবশ্যই ইউক্রেনের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পোরোশেঙ্কোর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।’
