সময়ের সাথে চিন্তার গতিময়তায় প্রজন্ম এগিয়ে চলে। সৃজনশীল প্রচেষ্টা এবং কারিগরি দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্থাপত্য শিল্পে এগিয়ে চলছে প্রজন্ম। তেমনই একজন বিধান কুমার সাহা। শুধুমাত্র আঁকাআঁকির সুযোগ রয়েছে এমন চিন্তা থেকেই যিনি ভর্তি হন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচারে। সেখানে ছবি আঁকার পাশাপাশি শুরু করলেন বাড়ি তৈরির শিক্ষা অর্জন। পড়াশোনা শেষে বন্ধুরা মিলে খোলেন নেক্সট ডোর আর্কিটেক্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ নিয়েই তার এগিয়ে চলা। তার গল্প শোনাচ্ছেন আহসান রনি ও ছবি তুলেছেন ইফতেখার ওয়াহিদ ইফতি
১৯৭৫ সালের কথা। চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান তখনও বেঁচে আছেন। তিনি ছবি আঁকা শেখানোর জন্য ‘শিশুস্বর্গ’ নামে একটি স্কুল খুললেন। শিশুদের ছবি আঁকা শেখানোই তার উদ্দেশ্য ছিল। সেই স্কুলের এক মনোযোগী সদস্য ছিলেন বিধান। সবাই এসএম সুলতানকে ‘দাদা’ বলে ডাকতেন। প্রতিদিন সকালে উঠে দাদার কাছে ছবি আঁকা শিখতেই হবে বিধানের। আঁকতে আঁকতে ছবির আঁকার প্রতি ভালোবাসা জন্মে গেল তার। নিজের আগ্রহেই শিখতে যেতেন। সেই শেখার পাশাপাশি খেলাধুলা প্রিয় ছিল তার। ১৯৭৯ সালের জিমন্যাস্ট প্রতিযোগিতা সারা বাংলাদেশে দ্বিতীয় হন তিনি। জেলা ম্যারাথনে ছিলেন টানা ৩ বারের চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু আঁকাআঁকি ছাড়েননি। ভর্তি হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচারে। সেখানে ছবি আঁকার পাশাপাশি শুরু করলেন বাড়ি তৈরির শিক্ষা অর্জন। আঁকাআঁকির কাজ বিধায় এই কাজটিও ভালো লেগে যায় তার। পড়াশোনা শেষে বন্ধুরা মিলে খোলেন নেক্সট ডোর আর্কিটেক্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গড়তে থাকেন নানা স্থাপনা। ১৯৯৯ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দেওয়ালের টেরাকোটা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নেন তিনি। এরপর তিনি কাজ করেছেন সুন্দরবনে। দীর্ঘ আড়াই বছর সুন্দরবনকে সুন্দর করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। সেখানকার করমজল ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারসহ অনেকগুলো স্থাপনার প্ল্যানিং ও তৈরির কাজ সরাসরি তদারকি করেন তিনি। তার মতে, স্থাপত্য হলো ইমারত এবং কোনো বাস্তব কাঠামো তৈরির শিল্প এবং বিজ্ঞান। পেশা হিসেবে এখন আর্কিটেক্ট খুবই সমাদৃত। এখন শুধু ভবনের নকশা করেই থেমে থাকা না, সব ধরনের ক্রিয়েটিভ কাজেই আর্কিটেক্টদের হাতের ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে। এই পেশা সম্পর্কে তার ভাবনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইদানীং এ বিষয়ে মানুষের সচেতনতা অনেক বেড়েছে। আমাদের শুরুর সময়টাতে এতটা কাজের সুযোগ ছিল না। ধীরে ধীরে এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন অনেকেই এ পেশায় আগ্রহী হচ্ছেন। মান ও শিল্পসম্মত কাজের জন্য মানুষ স্থপতিদের উপর আস্থাও রাখছেন। এ বিষয়গুলোকে ইতিবাচক বলে আমি মনে করি।’ প্রসঙ্গতই জানতে চেয়েছিলাম, নতুনদের কাজ কেমন লাগে, তিনি বললেন, ‘আমি নিজেও নতুন। তাছাড়া আমি যেসব নতুনদের দেখি তাদের মাঝে আগ্রহ রয়েছে, তবে অবশ্যই নিজের দক্ষতাটা ঝালাই করে নিতে হবে। যারা এখনও পড়ছে, তাদের সিনিয়রদের সাথে কাজ করা উচিত। এভাবে কাজের ফলে নিজের অভিজ্ঞতাটা বাড়ানো যায়, যোগাযোগের মাধ্যমটাও তৈরি হয়। আর এটা এমনই একটা পেশা যেখানে পারস্পরিক সৌহার্দ্যটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি চান এই পেশায় ভালো করতে। শুধু বাংলাদেশ নয়, তার লক্ষ্য তিনি সারা বিশ্বের সেরা কয়েকজন আর্কিটেক্টদের একজন হবেন। তিনি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সেই কাজে। প্রজন্মের পক্ষ থেকে এই তরুণ আর্কিটেক্টের প্রতি শুভকামনা।
বিধান কুমার সাহা
ডাকনাম :বিধান
জন্ম তারিখ ও স্থান :২৮ নভেম্বর, নড়াইল
মায়ের নাম :লতিফা রাণী সাহা
বাবার নাম :বিজন কুমার সাহা
প্রথম স্কুল :নড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
প্রিয় মানুষ :এসএম সুলতান
প্রিয় পোশাক :সাদা শার্ট-প্যান্ট
অবসর কাটে যেভাবে :ছবি এঁকে, গান লিখে ও কবিতা লিখে
সাফল্যের সংজ্ঞা :কষ্ট করে কিছু অর্জন করা।
