প্রযুক্তির হাত ধরে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগছে কার্টুন-অ্যানিমেশনের সুন্দর জগতটিতে। একসময় কার্টুন আঁকা হতো হাতে, বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে সেটা মুভিং অজবেক্ট বা গতিশীল করে আমাদের সামনে নিয়ে আসা হতো। সময় পাল্টেছে, কার্টুনকে জীবন্ত রূপ দেওয়া এখন অনেক সহজ। কম্পিউটারের যুগে কার্টুনিস্টদের অনেকেই রংতুলি, কলম ছেড়ে কি-বোর্ড, মাউস ধরেছেন। তবে কার্টুনের কারিগরি দিক যতই পরিবর্তিত হোক, যে জিনিসটি পরিবর্তন হয়নি তা হলো এর আনন্দ দেওয়ার ক্ষমতা। বিশ্বের হাজারো তরুণেরা কাজ করে চলেছে এই কাল্পনিক জগতটিতে। তেমনই একজন হলেন স্টিভেন সেগাল। কার্টুনিস্ট এই তরুণকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
বিখ্যাত অ্যালিয়েন বিষয়ক কার্টুন ‘বেন টেন’-এর কথা আমাদের সবারই জানা আছে। তারপরও কার্টুনটি সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয়, ‘বেন টেন’ একটি মার্কিন অ্যানিমেশন বা কার্টুন টিভি সিরিজ, যার মূল চরিত্র বেন টেনিসন নামের এক কিশোর। এই কিশোরটি তার হাতের অদ্ভুত একটি ঘড়ি দিয়ে ১০টি অ্যালিয়েনের রূপ নিতে পারে। কিন্তু তার প্রতিপক্ষও কম না, তারাও অনেক শক্তিশালী। মূলত এই নিয়ে চলতে থাকে সিরিজের কাহিনী। শুধু পর্দাতেই সীমাবদ্ধ নয়। পর্দা থেকে বেরিয়ে শিশু-কিশোরদের হাতে চলে এসেছে বেন, তবে তা বিভিন্ন খেলনা আকারে। এতদূর এসে নিশ্চয় সবার জানতে ইচ্ছে করছে এ বিখ্যাত কার্টুনের পেছনে যে রয়েছে তার সম্পর্কে! বেন টেন নামের এই কার্টুনটির জন্ম হয় তরুণ প্রজন্মের এক উজ্জ্বল প্রতিভা স্টিভেন সেগালের হাত ধরে। তিনি মার্ভেল কমিকসের সাথে কাজ করেন। তিনি একজন আমেরিকান কমিক রাইটার। একই সাথে তিনি টেলিভিশন, ফিল্ম, লাইভ থিয়েটার, ভিডিও গেমস ও অ্যানিমেশনের কাজের সাথেও যুক্ত রয়েছেন।
শুরুর গল্পটি
২১ মার্চ এই খ্যাতিমান ব্যক্তির জন্ম। সপরিবারে আমেরিকাতেই থাকেন তিনি। খুব ছোটবেলা থেকেই তার আঁকাআঁকির কথা ছড়িয়ে পড়ে বন্ধুদের মধ্যে। জগতটার প্রতি ভালোবাসা ছিল সবসময়ই, একসময় ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন এই জগতটিকে। তিনি বেশি পরিচিত ন্যাশনালি অ্যাকলেইমড, গ্রাফিস্ক নভেল ‘ইটস অ্যা বার্ড’-এর জন্য। তিনি ম্যান অব অ্যাকশন স্টুডিওতেও কাজ করেছেন। সেখানে তিনি কার্টুন নেটওয়ার্কের ‘বেন টেন’ সিরিজ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এই কার্টুনটি কার্টুন নেটওয়ার্কের সবচেয়ে বেশি রেটিং অর্জন করেছিল। সেই সাথে সিরিজ প্রিমিয়ারের খেতাবটিও জিতে নেয় তার কার্টুনটি।
সেগালের কিছু কাজের কথা
মার্ভেল কমিকসের সাথে কাজ করলেও তিনি প্রফেশনাল কাজের বাইরে নিজস্ব কাজের একটি সংগ্রহ গড়ে তুলেছেন। একটি মজার ব্যাপার হলো, তিনি বেশিরভাগ সুপারহিরো টাইপ কমিক নিয়ে কাজ করেছেন। তার কাজের মধ্যে আরও আছে এক্স-মেন সিরিজ। এই সিরিজটি সেই সময়ে উইজার্ড পুরস্কার জিতেছিল। শুধু তাই নয়, তার এই কার্টুন থেকে পরবর্তীতে সিনেমাও করা হয়। এই সিনেমার প্রতিটি সিক্যুয়েল ব্যাপকভাবে সব মহলেই সাড়া ফেলে। সিনেমাটির নতুন সিক্যুয়েলটি কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে। এ ছাড়াও তিনি ভার্টিগো কমিকস বুক নিয়ে কাজ করতেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল ‘স্যান্ডম্যান মিস্টেরি থিয়েটার’, ‘হাউজ অব সিক্রেটস’ (এটি নিয়েও সিনেমা তৈরি হয়েছে) ও ‘আমেরিকান ভার্জিন’।
