বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ড. খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, বেসিক ব্যাংক নিয়ে যা হচ্ছে, তা ব্যাংকিং নামে চালানোর কোনো সুযোগ নেই, এটি ব্যাংক ডাকাতি। এগুলো হলমার্কের মতো লুটপাট। তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংক থেকে যে চার হাজার কোটি টাকা লোপাট হলো সেটাতো জনগণের টাকা। এই ঘাটতি কোথা থেকে পূরণ করা হবে? জনগণকে তার কৈফিয়ত দেবেন না, তা হবে না।
গতকাল রবিবার সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সমন্বয় আয়োজিত এক সভায় তিনি একথা বলেন। সভায় ‘প্রস্তাবিত বাজেট ২০১৪-১৫ কেমন হলো: একটি সমুন্নয় পর্যালোচনা’ শিরোনামে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়কারী দিলরুবা ইয়াসমিন চৌধুরী। প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাডিজের (বিআইআইএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. মাহফুজ কবীর। সভাপতিত্ব করেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
বেসিক ব্যাংকের অনিয়মের জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বরখাস্ত করা হলেও চেয়ারম্যানকে কেন ধরা হচ্ছে না—এ বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তিনি বেসিক ও সোনালী ব্যাংকসহ সরকারি ব্যাংকে লুটপাটের জন্য অর্থমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর ঘাটতি মেটাতে মানুষের করের টাকা থেকে গঠিত বাজেট সহায়তা দেয়া হয়। অথচ এই টাকা ব্যাংকগুলো থেকে লুটপাট করা হচ্ছে। এজন্য বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। কারণ চেয়ারম্যানকে সরকারই নিয়োগ দিয়েছে। কালো টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কালোটাকা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে হবে। বৈধ অপ্রদর্শিত আয়ের ক্ষেত্রে এই সুযোগ রাখা যেতে পারে। যেমন জমি বিক্রির ক্ষেত্রে নিবন্ধনের সময় কম মূল্য দেখানো হয়। সেক্ষেত্রে বাকি টাকা বৈধ করার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। সেজন্য আয়কর আইনে সংশোধন করতে হবে। তবে ঘুষ বা অন্য কোনো অবৈধ আয়ের ক্ষেত্রে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধ করতে হবে।
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় দেশের শিল্পখাত বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের প্রধান বাধা নয়—উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগের প্রধান বাধা হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকা। নতুন করে এর সঙ্গে আরো একটি সমস্যা যুক্ত হয়েছে তা হচ্ছে জমির সংকট। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেটে বক্তৃতায় বলেছেন, বিনিয়োগের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এ কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। নিবন্ধ উপস্থাপনে দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে দারিদ্র্যবান্ধব পরিকল্পনা নেয়া হয়নি। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি বরং কমেছে। আবার সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও খুব বেশি নজর দেয়া হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ কমানোর কারণে গরিবরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
