সোমালিয়ার জলদসু্যুদের হাতে সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি সাতক্ষীরার সাত বাংলাদেশি নাবিককে মুক্তি দিয়েছে দস্যুরা। ২০১০ সালের ২৬ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে থাকা অন্য দেশের নাগরিকসহ সাত বাংলাদেশি নাবিককে অপহরণ করা হয়।
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের মৃত মৌ হোসেনের ছেলে গোলাম মোস্তফা, ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান ও নুরুল হক এবং আশাশুনি উপজেলার কুল্যা গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে মো. আবুল কাশেম। এছাড়া চাঁদপুর জেলার লিমন সরকার এবং চট্টগ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম ও মো. জাকির হোসাইন। এই সাতজনের জন্য সাত লাখ মার্কিন ডলার মুুক্তিপণ দাবি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশি ৭ নাবিক কেনিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাসে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে নাবিকরা তাদের স্বজনদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ২/১ দিনের মধ্যে তারা ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন বলে জানা গেছে। এ খবরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর, আশাশুনি উপজেলার কুল্যা, সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে বিরাজ করছে আনন্দের বন্যা। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের জন্য আনন্দে অনেকে অঝোরে কেঁদেছেন। অনেকে আদায় করেছেন নফল নামাজ। সরকারকে জানিয়েছেন গভীর কৃতজ্ঞতা। সাড়ে ৩ বছর পর সোমালীয় জলদস্যুদের কবল থেকে ছাড়া পেয়েছেন বাংলাদেশের সাত নাবিক। আমিরাত থেকে কেনিয়া যাওয়ার পথে মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী ‘এমভি আলবেডো’ ২০১০ সালে ভারত মহাসাগরে ছিনতাই হওয়ার সময় ওই সাত বাংলাদেশি জাহাজটিতে ছিলেন।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির বিভাগের সুইমিংপুল অ্যাটেনডেন্ট নূরুল ইসলাম। ছেলের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। একমাত্র ছেলে আমিনুল ২০১০ সালে মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি আলবেডো’তে চাকরি নিয়ে বিদেশে যায়। সে বছর নভেম্বর মাসে আমিরাত থেকে কেনিয়া যাওয়ার পথে ভারত মহাসাগরে সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে তাদের জাহাজ।
তারপর থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনতে শুরু করেন আমিনুলের বাবা নুরুল ইসলাম। সময় যত গড়াতে থাকে, ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশাও ততো কমতে থাকে। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আবার যেনো হারানো যৌবন ফিরে পেয়েছেন নুরুল ইসলাম। কারণ তার ‘হারানো মানিক’ জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। তার সাথে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশের আরো ৬ নাবিক। এরা হলেন- চাঁদপুরের শাহরাস্তির জাকির হোসেন, সাতক্ষীরার গোলাম মোস্তফা, হাবিবুর রহমান, আবুল কাশেম, নুরুল হক ও চাঁদপুরের লিমন সরকার। আমিনুলের পিতা নুরুল ইসলাম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, সাড়ে তিন বছর পর আমার ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় রয়েছি। ওর জন্য কত জায়গায় ধর্না দিয়েছি। অনেক পরিশ্রম হয়েছে। ছেলের জন্য নফল রোজা রেখেছি। দ্বারে দ্বারে ঘুরতে গিয়ে টাকা-পয়সা খরচ হয়েছে। নিজের শরীরের দিকে খেয়াল রাখতে পারিনি। আজ আমি অনেকটাই পঙ্গু। তারপরও সব কষ্ট আজ সার্থক। কারণ ছেলে ফিরে আসছে। আমি সরকারকে ধন্যবাদ দেয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।
