স্পোর্টস রিপোর্টার
১৯৯২ সালে প্রায় বালক বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল তার। এরপর একে একে ছয়টা বিশ্বকাপ খেলেছেন। জাভেদ মিয়াঁদাদ ছাড়া এতগুলো বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা কারো নেই। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে এসে ঘরের মাটিতে ট্রফি জিতে তবে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছেন শচীন টেন্ডুলকার। আরেকটা বিশ্বকাপ যখন দুয়ারে দাঁড়িয়ে তখন এই টুর্নামেন্ট নিয়ে কথা বলার জন্য তার চেয়ে ভালো লোক আর কে আছেন!
টেন্ডুলকার বলছিলেন, বিশ্বকাপ খেলাটা একজন ক্রিকেটারের জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যাপার। ফলে এর প্রতিটা আসর তার জন্য অমূল্য স্মৃতি, ‘নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করাটা একটা খেলোয়াড়ের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। আর বিশ্বকাপ সম্ভবত একজন ক্রিকেটারের জীবনে আসা সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। ফলে এই দুটো ব্যাপার যখন মিলে যায়, সেটা বৃহত্তম একটা উপলক্ষে পরিণত হয়। আর এই কারণেই বিশ্বকাপের স্মৃতি আজীবন থেকে যায়।’
এবারের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে নতুন ফরম্যাটে। সব দল এবার সব দলের সঙ্গে খেলবে। এই ফরম্যাটে সর্বশেষ যে বিশ্বকাপ হয়েছিল, সেই ১৯৯২ আসরে খেলেছিলেন টেন্ডুলকার। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছিলেন, এবারের আসরে নিজেদের মনোসংযোগ ধরে রাখাটাই মূল চ্যালেঞ্জ হবে। ভারতের দল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বলছিলেন, ‘এটা লম্বা একটা টুর্নামেন্ট হবে, নতুন ফরম্যাট। ফলে নিজেকে চতুরতার সঙ্গে সঠিক গতিতে রাখাটা হবে গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। আমাদের (ভারতকে) প্রক্রিয়াটার প্রতি মনোযোগী থাকতে হবে। তাহলে ফলাফল এমনিতেই আসবে। আমি স্রেফ এটাই বলতে চাই যে—মনোযোগী থাকো এবং মুহূর্তগুলো উপভোগ করো।’
গত বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ২৩ বছর পর বিশ্বকাপের বাইরে ছিলেন টেন্ডুলকার। সেবার মাঠে বসে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের সেমিফাইনাল পর্যন্ত অভিযান দেখেছিলেন। টেন্ডুলকার বলছেন, এবারের ভারতীয় দলটা বিশেষ করে অলরাউন্ডারদের কারণে আগের বারের চেয়ে বেশ ভিন্ন। তিনি এবারের দল নিয়ে বেশি আশাবাদী, ‘আমি মনে করি, এবারের বিশ্বকাপে আমাদের দলের কয়েকজন অলরাউন্ডারের দিকে আমরা চেয়ে থাকতে পারি। হার্দিক পান্ডিয়ার মতো একজন খেলোয়াড় আছে। যে একজন সিম বোলিং অলরাউন্ডার। তার দলে সংযুক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এরপর বিজয় শঙ্কার আছে। সেও ব্যাটিং ও বোলিং করতে পারে। এরপর দলে দুজন লেগ স্পিনার আছে। এরা মাঝের ওভারগুলোতে খুব ভালো বল করতে পারবে। দলে রবীন্দ্র জাদেজার মতো অলরাউন্ডার কাছে। এরা থাকায় ২০১৫ সালের চেয়ে এবারের দলটা একটু অন্যরকম।’
সেইসঙ্গে টেন্ডুলকার মনে করেন, জসপ্রিত বুমরাহসহ ফাস্ট বোলারদের কারণেই ভারতের বোলিং আক্রমণ এবার অনন্য। তবে বোলিং আক্রমণ নিয়ে তিনি ২০১৫ দলের সঙ্গে এবারের দলকে তুলনা করতে চান না, ‘আমি মনে করি, আমি যেমনটা আশা করি, এবারের বোলিং আক্রমণ সেরকম। এটা পূর্ণাঙ্গ একটা আক্রমণ। তবে সবসময়ই দুটো বিশ্বকাপের দলের মধ্যে তুলনা না করাটাই ভালো।’
