বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ

আপডেট : ১০ জুন ২০১৪, ২১:৪৩
এক. বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ! কথাটি কেমন আশ্চর্য লাগছে । ফিফা রেংকিং-এ অনেক পিছিয়ে, বাছাই পর্বে খেলে খেলে এগিয়ে আসেনি, যে দলগুলো খেলবে সে দলে নাম নেই তবুও বিশ্বকাপে বাংলাদেশ? হ্যাঁ, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ। বল খেলে নয়। সমর্থক দলের জার্সি পরে ভক্তদের খেলা দেখা। মানে ভক্তরা যে দলকে সাপোর্ট করবেন সে দলের জার্সি পরে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখবেন। আর সে জার্সি তৈরি করেছে বাংলাদেশ। এ জার্সিতে লেখা থাকবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। কী গর্বের ! কী আনন্দের ! আমাদের গার্মন্টসখাত কত অগ্রসরমান। এ অগ্রসরমানতা যেন হারিয়ে না যায় কোনো কারণেই। আমাদের খেলার ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা আরো বাড়ুক, যেন জার্সির মতো শুধু গ্যালারিতে নয় বিশ্বকাপ মাঠেও বাংলাদেশ দল থাকে। দুই. জাতীয় পতাকা ও সমর্থকীয় পতাকা বিশ্বকাপ উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। বাংলাদেশেও চলছে তার আয়োজন। ভক্ত, সমর্থকরা কীভাবে তাদের খেলোয়াড়দের খেলা উপভোগ করবে, সমর্থন জানাবে তার আয়োজন চলছে জোরেসোরে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে পতাকা প্রদর্শন, জার্সি কেনা ইত্যাদি। সমর্থক দলের জার্সির মতো রঙ মাখা, চুল ছাঁটা, বাঁশি বাজা তো রয়েছেই। এর মধ্যে আসি পতাকা প্রসঙ্গে। চারদিকে লক্ষ করলে দেখা যাবে সমর্থক দলের পতাকা উড়ছে। নিজেদের সমর্থন সর্বোচ্চ আকারে প্রকাশে ভক্তরা পতাকা টাঙিয়েছে ঘরের ওপরে বাঁশে কিংবা পাইপে বেঁধে, কেউবা গাছের মগডালে, কেউবা টাওয়ারের মতো স্থানে। কেউবা অনেক বড় আকারে পতাকা লাগিয়েছে। এসবের সঙ্গে আমাদের জাতীয় পতাকাও লাগানো হয়েছে। সমর্থক তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে এর মধ্য দিয়ে। তবে আমাদের জাতীয় পতাকা দেখা যায় উপরে লাগানো। কিন্তু কথা হচ্ছে এই আমাদের জাতীয় পতাকা তো প্রতিদিন নামানো হবে না। হয়তো থেকে যাবে। এ বিষয়টি ভেবে দেখলে ভালো হতো। এছাড়াও খেলা শেষে ঐ পতাকা নামানোর ব্যাপারে আর খেয়াল থাকে না। তখন ঐ ওড়ানো পতাকাগুলো বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে, বাতাসে ছিঁড়ে মলিন বর্ণ ধারণ করে থাকে। তাই ঐ পতাকাগুলো যথাসময়ে যথাযথভাবে নামানো হবে—এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। কারণ আমাদের জাতীয় পতাকা অর্জনে অনেক সংগ্রাম, ত্যাগ আর রক্ত দিয়েছি। তিন. বিশ্বকাপ ও আমাদের খেলা ফুটবল আমাদের দেশে দারুণ জনপ্রিয়। ছোটবেলায় খড়ের পুঁটলি বানিয়ে, জাম্বুরা ফল দিয়ে বল বানিয়ে খেলেছি। আমাদের স্কুল মাঠে প্রতিদিন বিকেলে খেলা হতো। কিন্তু সেই মাঠে অনেক ঘর ওঠাতে আর খেলা হয় না। এ রকম অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে খেলার মাঠ বিলুপ্ত কিংবা নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের দৈহিক বিকাশ সাধনে ফুটবল খেলতে পারে না। আমাদের দেশেও ফুটবলের অবস্থান অনেক ভালো ছিল। এক সময়ে প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ, সাফ গেমস ইত্যাদিতে আলো ছড়াতো আমাদের খেলোয়াড়রা। কিন্তু আজ ফুটবলের তেমন উন্নতি দেখা যায় না। ক্রিকেট তুলনামূলক পরে এসেও আমরা বিশ্বকাপে খেলি। কিন্তু ফুটবলে নিচে পড়েই রয়েছি। এর জন্য খেলা ও খেলার মাঠ রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। অবশ্য শিশু-কিশোরদের জন্য বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা কাপ কিছুটা আশার আলো ছড়িয়েছে। তেমনি জেলাভিত্তিক, ক্লাবভিত্তিক, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক খেলা আরো আয়োজন করা হোক। এ ব্যাপারে বেসরকারি উদ্যোক্তাও এগিয়ে আসুক আরো। প্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলার মাঠ রক্ষায় উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন উঁচু ভবন তৈরি করা হোক। মাধ্যমিক পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষক রয়েছেন। তাঁর মাধ্যমে খেলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক। তাঁর যে কাজ সে কাজে লাগানো হোক। প্রতিটি উপজেলায় একসময় হেলিপ্যাড বানানোর জন্য মাঠ তৈরি করা হয়েছিল। তা আজও অব্যবহূত। সেগুলো দিয়ে উপজেলাভিত্তিক খেলার মাঠ বানানো যায় কিনা ভেবে দেখা যেতে পারে। গাইবান্ধা