আমাদের স্বাধীনতা সহজে অর্জন হয়নি। দীর্ঘ সংগ্রাম এবং অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যখন বাংলাদেশের জনগণের ওপর পাকিস্তানি সৈন্যরা নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে এবং চালাচ্ছে গণহত্যা, তখন বিবেকবান কোনো ব্যক্তি বসে থাকেননি। প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দাঁড়িয়েছেন নির্যাতিত বাংলাদেশি জনগণের পাশে। যে যেভাবে পেরেছেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যেখানে বাংলাদেশের অনেকেই পাকিস্তানিদের দালালি করে তাদের অপকর্মে সাহায্য করেছে সেখানে অন্যদেশের লোক আমাদের সাহায্য করেছে। আমাদের এই মহান বন্ধুদের ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়। তাদের কাছে বাংলাদেশের জনগণ কৃতজ্ঞ থাকবে সারাজীবন। বর্তমান সরকার এই অকৃত্রিম বন্ধুদের বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে। এর মাধ্যমে মাতৃভূমির সম্মান এবং ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।
কিন্তু টিভি চ্যানেল এবং পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে—এই সম্মাননা ক্রেস্টে স্বর্ণের দুর্নীতির কথা। মাতৃভূমির অর্থাত্ মায়ের সম্মান বৃদ্ধি করার বদলে মায়ের সম্মান বিক্রি করে দিয়েছে মায়ের দুর্নীতিবাজ নষ্ট সন্তানেরা। ক্রেস্ট প্রতি ১ ভরি স্বর্ণ ও ৩০ ভরি রূপা দেওয়া হয়নি এবং সেই ক্রেস্ট আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে লাখো শহীদের রক্তের প্রতি। তাই এই দুর্নীতিবাজদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া উচিত। এই দুর্নীতিবাজরা যে দলের কিংবা যে পদেরই হোক না কেন এরা দেশের শত্রু। এর মাধ্যমে আমাদের মহান বন্ধুদের অসম্মান করা হয়েছে। জানি না কীভাবে সরকার তাদের এই অপমান ঘোচাবে? যারা সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে, যারা দেশের সম্মান নিয়ে খেলেছে, যারা দুর্নীতির কাছে স্বাধীনতার সম্মাননাকে বলি দিয়েছে তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করতে সাহস না পায়।
ঢাকা
