টেলিভিশনের মিস্ত্রিদেরও হচ্ছে বাড়তি রোজগার
ডিজিটাল যুগে পরিবর্তনের পালায় মুক্তাগাছায় স্বচ্ছল পরিবারগুলো পুরনো মডেলের টেলিভিশন স্টোরে রেখে নতুন এলসিডি এলইডি ফ্ল্যাট আর নতুন নতুন মডেল ব্যবহার করে আসছিলেন। সম্প্রতি বিশ্বকাপ উত্তেজনায় স্টোরে রাখা টেলিভিশনের কদর বেড়েছে। সাদাকালো আর রঙ্গিন অব্যবহূত পুরনো টেলিভিশনের ক্রেতা মিলছে। দরিদ্র শ্রেণির মানুষ এই পুরনো টেলিভিশনের ক্রেতা। ক্রয়-বিক্রয়ে খুশি উভয়েই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন স্যাটেলাইট ক্যাবলের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। দিনমজুর, রিকশা চালক, কুলি এমনকি ভিক্ষুক পরিবারের প্রতিটি সদস্যই টেলিভিশন দর্শক। বাড়ির পাশে বিভিন্ন দেশের পতাকা উড়তে আর প্রতিবেশীদের গায়ে খেলার জার্সি দেখে ঐ পরিবারের শিশু-কিশোররা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন বিশ্বকাপ অচিরেই। অভিভাকদের কাছে বায়না টেলিভিশনের। অগত্যা পরিবারগুলো এখন পুরনো টেলিভিশন খোঁজাখুঁজি শুরু করে দিয়েছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটররা। বিশ্বকাপের বদৌলতে তাদেরও আয় বেড়েছে। দাওগাঁও ইউনিয়নের পুরনো টেলিভিশন ক্রেতা দিনমজুর জানু মিয়া জানান, শহরের বড় ব্যবসায়ী হাজী সেলিম সাহেবের নিকট থেকে ১২শ’ টাকা দিয়ে সাদাকালো টেলিভিশন কিনেছি। ইতিমধ্যে প্রতিমাসে দেড়শ’ টাকা ভাড়া হিসাবে টেলিভিশনে স্যাটেলাইট সংযোগও স্থাপন করা হয়েছে। দরিচারআনি বাজারের মাড়োয়ারী ব্যবসায়ী রতন আগরওয়ালা জানান, ৫ বছর ধরে অব্যবহূত রঙ্গিন টেলিভিশন ২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি জাপানী তৈরি এই টিভি তিনি ২৫ বছর আগে ২০ হাজার টাকায় কিনেছিলে। তার মতে, বিক্রি হওয়ায় পুরোটাই লাভ। এই সুযোগে টেলিভিশনের মিস্ত্রিদেরও বাড়তি রোজগার হচ্ছে। পুরনো টিভির ছোট-খাট কাজ সারিয়ে দিচ্ছেন তারা। মিস্ত্রিরা জানান, বিশ্বকাপ না আসলে এটা সম্ভব হতো না। এদিকে শহরের দোকানগুলোতে নতুন মডেলের টেলিভিশন বহুগুণে বিক্রি বেড়েছে বলে বিক্রেতা সূত্রে জানা গেছে।
