একুশে পদকভূষিত বাউল আবদুল করিম শাহ আর নেই

আপডেট : ১০ জুন ২০১৪, ২২:৫৬
ফকির লালনের গানের আদি ধারার রক্ষক হিসাবে যে ক’জন রয়েছেন তাদের অন্যতম বাউল গুরু আব্দুল করিম শাহ্ আর নেই। একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী আব্দুল করিম শাহ গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চৌড়হাঁস ক্যানেলপাড়ার বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্ল¬াহে... রাজেউন)। ‘ছাড় ফিকিরি করো ফকিরি, হল এইদিন আখিরী’ গানসহ বহু দেহতত্ত্ব গানের এই বাউল গুরুর মৃত্যুতে তার ভক্ত টুন টুন বাউল বললেন, করিম শাহ ছিলেন বাউল সম্রাট লালনের অনুসারী। তার মৃত্যুতে লালনের আদিশিল্পীর রেশটুকু মিলিয়ে গেল। তার মৃত্যুতে দেশের বাউল সম্প্রদায় ও সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব রণজিত্ কুমার বিশ্বাস তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন। মৃত্যুকালে আব্দুল করিম শাহের বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দুই স্ত্রী, দুই পালিত কন্যা ও ঔরসজাত এক পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন। গতকাল বাদ যোহর বাউলী দর্শনে তার নামাজে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে ভক্ত আকুল ফকিরের বাড়ির আঙ্গিনায় তাকে দাফন করা হয়। বাউল ফকির আব্দুল করিম পহেলা জুন অসুস্থ হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন থাকার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে নগদ দুই লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। গত ৮ জুন কুষ্টিয়ায় নিয়ে আসা হয়। ২০১১ সালে বাউল ফকির আব্দুল করিম একুশে পদক পান। করিম শাহের ভক্ত আকুল ফকির জানালেন, তার কিছুই নেই। তাই মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া কামারপাড়ায় আমার বাড়িতে চার কাঠা জমি তাকে দান করেছি, সেখানেই সাঁইজীকে দাফন করা হয়েছে।