চলার পথে আমাদের চোখে পড়ে এমন অনেক কিছুই, যা আমাদের সাধারণ জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে তোলে। বিশেষ করে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এসব তথ্য হতে পারে অন্যতম সহায়। এ বিষয়েই লিখেছেন ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের ফার্মাসিস্ট ট্রেইনার নাজমুল হুদা
রাজশাহী থেকে একটি চাকরির জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ঢাকায় এসেছিল তরিক ( ছদ্মনাম)। বংশী নদী পাড় হয়ে গাবতলী বাস টার্মিনালে বাস ঢুকতেই একটা সিমেন্টের বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ডে চোখে পড়লো তার। বিলবোর্ডে বড় করে উল্লেখ ছিল সিমেন্টের উপাদান সিলিকা +অ্যালুিমনিয়াম। এ তথ্যটিই সেই পরীক্ষায় কাজে এসে যায়। বিলবোর্ডের বিজ্ঞাপনে নজর দেওয়ার কারণে ‘সিমেন্টের মধ্যে নিন্মের কোন উপাদানটি থাকে’—এই বহুনির্বাচনী প্রশ্নের সঠিক উত্তর তাত্ক্ষণিক মনে পড়ে যায় তরিকের। এরকম নানা তথ্য সম্বলিত শত সহস্র বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ব্যানার এমনকি প্রতিষ্ঠানের নামফলক ও অবস্থান একটু ভালোভাবে খেয়াল করলে তা সহজেই মনে গেঁথে যায়, কাজে লাগে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাসহ জীবনের নানা ক্ষেত্রে। চলার পথে জ্যাম-যন্ত্রণায় বা আশেপাশের বিজ্ঞাপন বিড়ম্বনায় বিরক্ত না হয়ে রপ্ত করার অভ্যাসটি গড়ে তুলতে পারলে অনেককিছু আয়ত্ত্বে আনা যায় অনায়াসে।
বিবিধ বিষয়
বিজয় সরণীর রাস্তার পাশে বিশাল বিলবোর্ডে বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে ইপিজেডের সাফল্যের ধারা। পাশাপাশি বিনিয়োগ, নতুন শিল্প স্থাপন, উত্পাদনসহ আছে নানা তথ্যের হালনাগাদ। একই বিলবোর্ড ঢাকা, গাজীপুরের কয়েকটি স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। আবার ফার্মগেটের কৃষিবিদ ভবনের সামনে টাঙানো একটি ব্যানারে তুলে ধরা হয়েছে কৃষিক্ষেত্রের সাফল্য। প্রতিদিন চলার পথে চোখ বুলিয়ে নিলেই এমন অনেক তথ্য মনে করে রাখা যায়। কারণ ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কিংবা কাঙ্ক্ষিত চাকরির প্রস্তুতির পরীক্ষার জন্য নানা বিষয়ে ধারণা থাকতে হয়, মনে রাখতে হয় অসংখ্য তথ্য। চোখ-কান খোলা রেখে প্রস্তুতি না নিলে বাদ পড়তে পারে দরকারি বিষয়ও। শুধু একটানা পড়াশোনা করে একঘেয়েমি এসে যেতে পারে। আবার সবসময় সবকিছু মনে রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। এজন্য প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে চলার পথের এইসব বিলবোর্ড বিবরণ, প্রচারণামূলক উপকরণ।
স্থাপনার স্থান
অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠান ছড়িয়ে আছে হয়তো আমাদের আশেপাশে, চোখে পড়ে চলার পথে। এসব স্থাপনা বিষয়ক প্রশ্নে উত্তর দেওয়ার জন্যে শুধু বই পড়ে সব তথ্য মনে রাখা কঠিন। চোখে দেখলে মনে রাখা সহজ হয়, গুলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। আবার পড়া বিষয়গুলো মিলিয়ে নেওয়া যেতে পারে চলার পথে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নাম, লোগো, স্লেগাান, অবস্থান ইত্যাদি বিষয় জেনে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। একইভাবে যেসব নদী, পাহাড়, বন চোখে পড়ে সেগুলো সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা নিতে পারলে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না, ভুল উত্তর দেওয়ার প্রবণতা কম থাকে।
নানান বানান
বানান আয়ত্ত্বের জন্যও সহায়ক হতে পারে চলার পথের বিভিন্ন উপকরণ। ইংরেজি ও বাংলা ভাষার বানানে দক্ষ হতেই বেছে নেওয়া যায় চলার পথ। যেমন—রেস্টুরেন্ট, ব্যুরো, ইনস্টিটিউট ইত্যাদি শব্দের বাংলা ও ইংরেজি বানান প্রায়ই চলতি পথে চোখে পড়ে। কোনো কোনো সাইনবোর্ড-ব্যানারে ভুল বানানও থাকে। সেই ভুল ধরে নিজেকে শুধরে নেওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে এভাবে। আবার অনেক সময় খুব সহজ এবং সাধারণ বানানও ভুল হয়। যেকোনো বাহনে বসে চলার সময় একটু লক্ষ্য রেখে এগোলে এগুলো ঠিক করে নেওয়া সহজ হয়।
ঘরে বাইরে পড়ে
প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন পরীক্ষায় ভালো প্রস্তুতির জন্য পাঠ্যবিষয়ের পাশাপাশি অর্থনীতি, অবকাঠামো, সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভৌগলিক পরিধি, আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা করতে হয়; চোখ রাখতে হয় চলমান ঘটনায়। এজন্য প্রাসঙ্গিক বইয়ের পাশাপাশি নিয়মিত পত্রিকা, সমায়িকী পড়ার প্রয়োজন হয়। যাত্রা পথের দূরত্ব ও অনুমানিক সময় চিন্তা করে হাতে নেওয়া যেতে পারে পছন্দের পত্র। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন চোখে বা মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে। দৈনন্দিন সংবাদ পড়ার পাশাপাশি বিশ্লেষণভিত্তিক নিবন্ধ, পর্যালোচনা, সাক্ষাত্কার পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে পারলে তা পত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাজে আসে।
দিবসের দিশে
বিশেষ দিবসে থাকে বিশেষ আয়োজন। পোস্টার, ব্যানারে সাজানো হয় পথের দুপাশ। কখনও বা সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজন করা করা হয় বর্ণাঢ্য র্যালি, অলোচনা অনুষ্ঠান। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের এসব নানা উদ্যোগ, আয়োজনে শাণিত হতে পারে প্রস্তুতি। বের হয়ে আসতে পারে নানা অজানা তথ্য। হতে পারে জানা তথ্যের হালনাগাদ। কোনো দিবসের তাত্পর্য, প্রতিপাদ্যসহ বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত পোস্টার, ব্যানার কিংবা ক্রোড়পত্রের দিকে খেয়াল রাখলে যে কেউ প্রতিযেগিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারে, পৌছে যেতে পারে সাফল্যের দোড়গোড়ায়।
