একদিকে রঙের ব্যবহারে সাহসিকতা, অন্যদিকে ক্যানভাসে নতুন ভাবনার বিচ্ছুরণ—সারাদেশের নবীন শিল্পীরা জাতীয় পর্যায়ের এমন বিশাল প্রদর্শনীতে নিজেদের ভাবনা প্রকাশের সুযোগ পেয়ে যেন জ্বলে উঠেছেন একযোগে। দেশের নবীন শিল্পীদের শিল্পকর্ম নিয়ে শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে ‘নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী ২০১৪।
সারাদেশের নবীন শিল্পীদের মাঝ থেকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণ শিল্পীদের পুরস্কৃত করা হয়। এবছর শিল্পকলা একাডেমির ধারাবাহিক আয়োজনের ১৯তম প্রদর্শনী। ১৯৭৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছিল নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীর প্রথম পর্ব। নবীন শিল্পী চারুকলা পুরস্কার ২০১৪ পেয়েছেন আনিসুজ্জামান মামুন (রিয়েলিটি শো-১৬), ভাস্কর্যে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন রূপম রায় (শব্দ হারায় শব্দে-৩), ছাপচিত্রে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন পলাশ বরণ বিশ্বাস (নারী ও বাস্তবতা-৩), স্থাপনা শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন মোহাম্মদ মোজাহিদুর রহমান সরকার (অসম্পূর্ণ মানুষের আত্মকাহিনী) এবং সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন খোকন চন্দ্র সরকার (ধাই-‘মা’-৩), সৈয়দ ফিদা হোসেন (সেলফ কোয়েস্ট এন্ড প্যানোরমা ওয়ার্ল্ড-৫), রুহুল আমিন তারেক (কমপ্লেক্স সিটি অফ টাইম এন্ড রিয়ালিটি-২০) ও সুমনা আক্তার (রেড-৬)। সকল মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ১টি ৭৫ হাজার টাকা, মাধ্যম শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ৩টি প্রতিটি ৫০ হাজার টাকা এবং সম্মানসূচক পুরস্কার ৪টি প্রতিটি ১৫ হাজার টাকা। এছাড়াও পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রদান করা হয় ১টি করে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট।
গতকাল বুধবার শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় চিত্রশালা গ্যালারিতে শুরু হয়েছে এ প্রদর্শনী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রণজিত্ কুমার বিশ্বাস। তিনি প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন। শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। এছাড়াও বিচারকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন শিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমীর চারুকলা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
বাংলাদেশের মোট ৫২৮ জন শিল্পীর ১২০৭টি শিল্পকর্ম থেকে বাছাই করে ১৬৬ জন শিল্পীর ১৯৭টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য চূড়ান্ত করা হয়। শিল্পকর্ম নির্বাচন করেন শিল্পী হাসান মাহমুদ, শিল্পী শ্যামল চৌধুরী, শিল্পী ফারেহা জেবা, শিল্পী মোঃ আলপ্তগীন তুষার। বাছাইকৃত ১৯৭টি শিল্পকর্মের মধ্য থেকে ৮টি শিল্পকর্ম পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে ১টি নবীন চারুশিল্পী পুরস্কার, ৩টি মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ও ৪টি সম্মানসূচক পুরস্কার। এই ৮টি পুরস্কার নির্ধারণ কমিটির বিচারক ছিলেন শিল্পী শামসুদ্দোহা, শিল্পী শেখ আফজাল হোসেন, শিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠু, শিল্পী আনিসুজ্জামান। প্রদর্শনী চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
