দুই ডিসিসিই প্রশাসকহীন

আপডেট : ১২ জুন ২০১৪, ২৩:০১
বর্তমানে কোন প্রশাসকও নেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিসিসি)। নির্বাচনবিহীন এই দুই সিটি কার্যত এখন অভিভাবকহীন। নির্বাচিত মেয়র বা প্রশাসক না থাকায় সংস্থা দুটির কার্যক্রমও শ্লথ গতিতে চলছে। ২০১১ সালের শেষদিকে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধির অঙ্গীকার করে ডিসিসি বিভক্ত করা হলেও কার্যত কিছুই হয়নি। প্রশাসক না থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, দক্ষিণেও শিগগিরি নিয়োগ দেয়া হবে। প্রশাসক না থাকলে কাজে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয় বলে দাবি করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথমেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আনোয়ারুল ইসলাম শিকদারের মেয়াদ শেষ হয়। গত ৫ জুন তিনি কর্মস্থল থেকে বিদায় নিয়েছেন। সেদিন তাকে বিদায় সংবর্ধনাও দেয়া হয়। উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে আনোয়ারুল ইসলাম শিকদার চলে যাওয়ার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফারুক জলিলকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। কিন্তু তিনি এখনও কাজে যোগ দেননি। অন্যদিকে গত ১ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মুহম্মদ আলমগীরের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তিনি সিটি করপোরেশন থেকে বিদায়ও নিয়েছেন। তিনি চলে যাওয়ার পরও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঐ পদে এখনও কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। দুই সিটির কর্মকর্তারা বলছেন, ছয় মাস অন্তর প্রশাসক অদল-বদল হওয়ায় কোন প্রশাসক এখানে কাজে স্বাছন্দ্যবোধ করেন না। অনেকেই এখানে যোগদানেই আগ্রহী নন। প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বাজেট তৈরি করছেন। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) ২০০৯ সালের আইন সংশোধন করে ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকায় দুটি সিটি করপোরেশন করা হয়। ৩৬টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠন করা হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এবং ৫৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠন করা হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। জনপ্রতিনিধির বদলে অনির্বাচিত প্রশাসক ঢাকার দুই নগর কর্তৃপক্ষে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ২৫-১(খ) ধারায় প্রশাসকের মেয়াদ প্রথমে ৯০ দিন করা হয় পরে আইনে আবার সংশোধনী এনে তা ১৮০ দিন করা হয়। এভাবেই গত ৩১ মাস ধরে প্রশাসক অদল-বদল করে চলছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এ দুই সিটি করপোরেশনে এ পর্যন্ত ১০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের (১) তে বলা আছে, ‘আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনভার প্রদান করা হবে’। এছাড়াও স্থানীয় সংস্থার প্রতিটি স্তর জনপ্রতিনিধির দ্বারা পরিচালিত হবার উচ্চ আদালতের নির্দেশ রয়েছে। বাস্তবে দুই সিটির ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র বিরাজমান। একটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনে এবার রাজনৈতিক কোন ব্যক্তিকে প্রশাসক করা হতে পারে। আমলাদের দিয়ে দুই সিটি করপোরেশন চালাতে গিয়ে নগরবাসী সেবা পাননি। তাই এবার আমলা নয়-রাজনৈতিক ব্যক্তিরা দায়িত্ব পেতে পারে সিটি করপোরেশনে। ঢাকা সিটিতে মাত্র দু’বার নির্বাচন ১৯৯৪ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট চালু হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে নির্বাচন হয়েছে চারবার। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হয়েছে মাত্র দু’বার। এর মধ্যে ১৯৯৪ সালে প্রথম নির্বাচনের পর দ্বিতীয় নির্বাচন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন হয় আরো তিন বছর পর ২০০২ সালে। তখন ঐ নির্বাচন বর্জন করেছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ নির্বাচন সেটাই। ঐ ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা। ২০০৭ সাল তার মেয়াদ শেষ হয়। এরপর ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন তত্কালীন নির্বাচন কমিশন দুই দফা এবং বর্তমানে কাজী রকিবউদ্দীন নেতৃত্বাধীন কমিশনও দু’দফা ভোটের উদ্যোগ নিলেও আইনি জটিলতায় তা আটকে যায়। নির্বাচন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর হোসেন জানান, ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, কমিশন নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত। স্থানীয় সরকার সীমানা জটিলতা নিরসন করলে যে কোন সময়ে নির্বাচন হতে পারে।