মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবার অর্ধশত কারখানা

আপডেট : ১২ জুন ২০১৪, ২৩:০৩
বাংলাদেশের ওপারে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা তৈরির অর্ধশত কারখানার তালিকা দিয়েছে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)। মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডো’তে চারদিনব্যাপী বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পর্যায়ের প্রথম সম্মেলনে বিজিবি’র পক্ষ থেকে সীমান্তে বিজিবি’র নায়েক মিজানুর রহমানকে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। চারদিনের সীমান্ত সম্মেলন শেষে উভয় দেশ ৯ টি বিষয়ে একমত হয়। এ ব্যাপারে উভয় দেশের পক্ষে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ ও মিয়ানমারের পুলিশ প্রধান মেজর জেনারেল জ উইন নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। উভয় দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার আগে বিজিবি’র পক্ষ থেকে মিয়ানমারের বিজিপি’র (বর্ডার গার্ড অব পুলিশ) কাছে ইয়াবা তৈরির কারখানার একটি তালিকা তুলে দেয়া হয়। বিজিপি’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে আরএসও (রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন) থাকার তথ্য দেয়। বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এদেশের মাটি ব্যবহার করে কেউ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতে পারবে না। আরএসও থাকার অভিযোগটি বাংলাদেশ অবশ্যই খতিয়ে দেখবে। এদিকে সম্মেলন শেষে ৯ টি বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিষয়গুলো হলো উভয় দেশের অবৈধ সন্ত্রাসী গ্রুপ ও অপরাধীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য বিজিবি-বিজিপি’র মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হয়েছে। দুই দেশ নিয়মিত পতাকা বৈঠক করে উভয় দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করবে। অবৈধ মাদক পাচার, মানবপাচার, ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদক পাচার বন্ধের ব্যাপারে উভয় দেশ একসাথে কাজ করবে। তাত্ক্ষণিক যে কোন বিষয়ে উভয় দেশ কমান্ডার বা স্টাফ পর্যায়ে টেলিফোন বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করবে। আস্থা ফিরিয়ে আনার অংশ হিসাবে উভয় দেশের দুই বাহিনীর মধ্যে প্রীতিমূলক ক্রীড়া অনুষ্ঠিত হবে। দুই দেশ সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসাবে জিরো লাইন ও এর আশেপাশে অবস্থানরত জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। মিয়ানমার বাংলাদেশ অভ্যন্তরে আরএসও থাকার অভিযোগের ব্যাপারে বলা হয়েছে, এ ধরনের কোন সংগঠন নেই, তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। গত মে মাসে সীমান্তে বিজিবি নায়েক মিজানুর রহমানকে হত্যার বিষয়টি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে-তার জন্য দুই দেশ ব্যবস্থা নেবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার কথা প্রস্তাব দেয়া হলে-মিয়ানমারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবে বলে জানায়। এতে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সীমান্ত লিয়াজোঁ অফিস সীমান্তের নিকটবর্তীস্থানে স্থাপন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।