দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ আরো পাঁচ বছর

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ২২:৫৬

বহু আলোচিত ‘দ্রুত বিচার আইন’ আরো পাঁচ বছর চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুতবিচার) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। মন্ত্রিসভার সায় পাওয়ায় এখন যাচাই-বাছাই শেষে আইনটি পাসের জন্য সংসদে তোলা হবে।

কেন এই আইনের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হলো—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এখনো এর কার্যকারিতা আছে। অনেক স্পর্শকাতর মামলা আছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। আইনের খসড়ায় বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। এই আইনটি হয়েছিল ২০০২ সালে। সেটির মেয়াদ ১৭ বছর শেষ হয়েছে গত এপ্রিলে। এখন এর মেয়াদ আরো পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা হলো। এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘কাস্টমস আইন, ২০১৯-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনের খসড়াটি ২০১৮ সালে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর তা জাতীয় সংসদেও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটি আর পাস হয়নি। তাই এখন আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে আবারো মন্ত্রিসভার অনুমোদনে সংসদে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে বৈঠকে ‘আন্তর্জাতিক নৌ দিবস’কে ‘বিশ্ব নৌ দিবস’ হিসেবে অভিহিত করা এবং দিবসটিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্?যাপন বা পালন সংক্রান্ত পরিপত্রের ‘গ’ শ্রেণির পরিবর্তে ‘খ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। বৈঠকে প্রয়াত গুণী শিল্পী খালিদ হোসেন ও সুবীর নন্দীর মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করেছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপে লাওসের সঙ্গে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নারী ফুটবল দলকে এবং আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

ঈদুল ফিতরের আগে একদিন ছুটি মিললে এবার টানা নয়দিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে সেই ছুটির বিষয়টি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ারের ওপর। কারণ, তিনিই নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করতে পারেন ৩ জুন। যদিও প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সফরে দেশের বাইরে যাচ্ছেন ২৮ মে, আর ফিরবেন ৮ জুন। তবে দেশের বাইরে থাকলেও ই-নথির মাধ্যমেও মিলতে পারে ছুটির আদেশ। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে যাওয়ার আগে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ছুটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন অনেকেরই। এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এটা আলোচনা হয়নি। আমার মনে হয় সামারির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে, যদি হয় (ছুটি)।