ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র শবে বরাত পালন

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৪, ২২:৩৯
যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে পালিত হয়েছে পবিত্র শবে বরাত। পুণ্যময় এ রাতে আল্লাহ তায়ালার রহমত লাভের জন্য প্রার্থনা করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শুক্রবার দিনগত রাতভর মুসল্লিরা নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির, আসকার ওয়াজ ও দোয় মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে সৌভাগ্যের এই রজনী পালন করেছেন। এই পবিত্র রাতে মুসলমানরা পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জেয়ারত করছেন। এ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নফল রোজা পালন করেছেন। শুক্রবার সূর্যাস্তের পর থেকেই রাজধানীর বায়তুল মোকারমসহ সারাদেশের মসজিদে মসজিদে বাড়তে থাকে মুসল্লিদের ভিড়। বায়তুল মোকারমে এ উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে ছিল- তেলওয়াতে কালাম পাক, আলোচনা, ওয়াজ মাহফিল, হামদ, না’ত, নফল ও তাহাজ্জুদের নামাজ এবং আখেরি মোনাজাত। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। দিবসটির তাত্পর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। চট্টগ্রামে শবে বরাতের ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে দরবার শরীফের মহান মোর্শেদ শাহছুফি আল্লামা অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ আহমদী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেন, দুনিয়ার সকল আরাম-আয়েশ ও বিনোদন ত্যাগ করে এই মহিমান্বিত রাতে মহান আল্লাহর রহমত কামনার মাধ্যমে আলোকিত জীবন গড়ার প্রতিজ্ঞা করতে হবে। শবে বরাত আমাদের কাছে রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। তাই এই মহান রাতে অতীতের সকল ভুলের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ভবিষ্যত্ সুন্দর জীবনের প্রত্যাশায় দৃঢ় প্রত্যয় ও সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। সাথে সাথে রমজানে সিয়াম-সাধনার মাধ্যমে সংযমের অভ্যাস গঠনের জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ওলামা পরিষদের সচিব মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহিম হানফি, উপাধ্যক্ষ আল্ল¬ামা বদিউল আলম আহমদী, মুহাদ্দিস কাজী আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকি, আল্ল¬ামা মুহাম্মদ আশেকুর রহমান ও মাওলানা মুহাম্মদ ফোরকান। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ ফোরকান মিয়া।