লেবানন সীমান্তের ভূমধ্যসাগরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষায় দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন দু’টি যুদ্ধ জাহাজ। আর গত চার বছর ধরে এই ভূমধ্যসাগরে দায়িত্ব পালন করা অপর দু’টি যুদ্ধ জাহাজ দেশে ফিরে আসছে। এ জন্য গত শুক্রবার জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দু’টির কমান্ড হস্তান্তর করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট ফোর’ নামের কমান্ড ‘বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট ফাইভ’ এর কাছে তাদের দায়িত্ব হস্তান্তর করে। গত চার বছর ‘বানৌজা ওসমান’ ও ‘মধুমতি’ ভূমধ্যসাগরে দায়িত্ব পালন করে। এখন তাদের স্থলাভিষিক্ত হলো ‘আলী হায়দার’ ও ‘নির্মল’ নামের অপর দু’টি যুদ্ধ জাহাজ।
দুপুরে ভূমধ্যসাগরের পাড়ে লেবানন সীমান্তে এই কমান্ড স্থানান্তর হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন ইউনিফিল মেরিটাইম টাস্কফোর্সের প্রধান কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল ওয়াল্টার এডওয়ার্ড বামবাডর। অন্যদের মধ্যে লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ এফ এম গাউসুল আযম সরকার ও লেবানন সফররত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান এ এম এম আওরঙ্গ জেব চৌধুরী, লেবানন নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার এডমিরাল নাজিব আল জিবলীসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের ‘শান্তি সংগীত’ এবং লেবানন ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
ফিরে আসা যুদ্ধ জাহাজ দু’টিতে দায়িত্ব পালন করেছেন ৬৪০ জন নাবিক। এর মধ্যে ‘বানৌজা ওসমান’ এর অধিনায়ক ছিলেন ক্যাপ্টেন আবুল কালাম আজাদ। তিনিও কমান্ড স্থানান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অপর যুদ্ধ জাহাজ ‘বানৌজা মধুমতি’র দায়িত্বে ছিলেন কমান্ডার শরীফ। ২০১০ সালের ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়ার সময় ওসমানের দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন মোজাম্মেল হক আর মধুমতির দায়িত্বে ছিলেন কমান্ডার আফজালুল হক। তারা ফিরে এলে দায়িত্ব নেন আজাদ ও শরীফ। নতুন যে দু’টি যুদ্ধ জাহাজ ভূমধ্যসাগরে যোগ দিল তাতে ৩২ জন কর্মকর্তাসহ ২৯০ জন নাবিক রয়েছেন। ‘বানৌজা আলী হায়দারে’র অধিনায়ক ক্যাপ্টেন এম আনোয়ার হোসেন ও ‘বানৌজা নির্মলে’র অধিনায়ক কমান্ডার তানজিম ফারুক।
শুক্রবার রাতে দুই জাহাজের বিদায় উপলক্ষে ‘বানৌজা ওসমানে’ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে কর্মকর্তাসহ নাবিকরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ এফ এম গাউসুল আযম সরকার ও লেবানন সফররত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান এ এম এম আওরঙ্গ জেব চৌধুরীও। অনুষ্ঠানে নাবিকদের অনেক সঙ্গীত সবার নজর কাড়ে। একজন তো ‘মাগো তুই দোয়া করিস, ইউনিফিল ম্যান্ডেট নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাহারা দিচ্ছি’ সঙ্গীত গেয়ে সবাইকে আবেগাপ্লুত করেন। এছাড়া দেশাত্মবোধক গানসহ বাংলাদেশের সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়। অনেকেই দীর্ঘ চার বছরের স্মৃতিচারণ করেন। একজন নাবিক বলেন, এখানে শীতকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়। তখন অন্য সব দেশের জাহাজ তীরে ফিরে আসে। কিন্তু বাংলাদেশের কোন যুদ্ধ জাহাজ কূলে ফিলে আসে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরেই দায়িত্ব পালন করেন নাবিকরা। এ কারণেই তারা সবার নজর কেড়েছেন।
