ছোট-বড় তার যেকোনো আসরের জন্য দল ঘোষণা করা হলে সেখানেও কিছুটা বিতর্ক থাকে। সেখানে সব প্রজন্মকে এক কাতারে এনে সর্বকালের সেরা একাদশ করলে কিছুটা বিতর্ক থাকবে না তা তো হতে পারে না। গত বছর বিখ্যাত ইংলিশ ম্যাগাজিন ওয়ার্ল্ড সকার বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরা একাদশ গঠন করে। যত আলোচনার ঝড় থাকুক না এখন পর্যন্ত এটাই সকল প্রজন্মের সর্বকালের সেরা একাদশ হিসেবে বিবেচিত। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার
ফুটবল ইতিহাসের সেরা ফুটবলার কারা? এমন প্রশ্নের উত্তরে জামার হাতা গুটিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা লেগে পড়বেন সেই কাজে। নিজেদের পছন্দের খেলোয়াড়দের ওই একাদশে জায়গা করে দিতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকবে না তাদের। বিশ্বখ্যাত ফুটবল সাময়িকী ‘ওয়ার্ল্ড সকার’ সম্প্রতি বিভিন্ন সময়ের সেরা ফুটবলারদের নিয়ে একটি একাদশ গঠন করেছে। একাদশ ঘোষণা করার জন্য বেশ কয়েক মাস সময় নেওয়া হয়। ওয়ার্ল্ড সকারের এই নির্বাচনে ‘প্যানেল’ হিসেবে অংশ নিয়েছেন ৭৪ জন ফুটবল সাংবাদিক। এরা বেশিরভাগই বিভিন্ন দেশে সাময়িকীটির প্রতিনিধি। টেলিগ্রাফ, রয়টার্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় টেলিভিশনের সাংবাদিকও ওই ৭৪ জনের নির্বাচনী প্যানেলে ছিলেন। ছিলেন জার্মানির সাবেক ফুটবলার ফ্রেডি ববিচও। নির্বাচকদের বলা হয়েছিল ৪-৪-২ ফরমেশনে দলটি দাঁড় করাতে। ৭৪ জন প্যানেল সদস্যের প্রত্যেকেই একটি করে একাদশ জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে ভোটের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয়েছে এগারে জন খেলোয়াড় ও তাদের কোচকে। যদিও অনেক খেলোয়াড়ই সুযোগ পাননি। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হচ্ছে, হাঙ্গেরিয়ান ফুটবলের জাদুকর ফেলেঞ্চ পুসকাস। এছাড়া তালিকায় নেই ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপজয়ী উরুগুয়ে দলের ঘিগিয়া ও শিয়াফিনো। যাদের দুজনকে বিশ্ব ফুটবলের প্রথম দুই সুপারস্টার হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের গ্যারিঞ্চা, ডিডি, ভাভা, মারিও জাগালোর আলো ছড়ানো তারকাদেরও সেরা একাদশে জায়গা হয়নি। যেমন করে জায়গা হয়নি ইতালির দুই ডিফেন্ডার জিওসেন্টো ফেচেত্তিও, ফ্রাঙ্কো বারেসি, ১৯৬৬ বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দলের দুরন্ত গোলরক্ষক গর্ডন ব্যাঙ্কস, ববি চার্লটন। তবে যাদের নিয়ে একাদশ গড়া হয়েছে তারাও খ্যাতির চূড়ায় অবস্থান করেছিলেন এবং করছেন। বিভিন্ন সময়ে বিশ্ব ফুটবল মাতানো বিভিন্ন পজিশনের ১০৭ জন ফুটবলারের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘সর্বকালের সেরা’ এই এগারো জনকে। সর্বকালের সেরা এই ফুটবল দলটির একজন কোচও নির্বাচন করা হয়েছে। ৫৬ জন সেরা কোচের মধ্য এই দলের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে। আসুন জেনে নিই সকল প্রজন্মের মাঝ থেকে উঠে আসা গ্রেট ফুটবলারদের।
কোচ
অ্যালেক্স ফার্গুসন
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দীর্ঘ ২৬ বছর কোচিং জীবনে প্রায় সব ট্রফিই পেয়েছেন তিনি। ফার্গুসনেই আস্থা রাখলেন বিশিষ্ট ফুটবলপ্রেমীরা।
গোল রক্ষক
লেভ ইয়াসিন
ইয়াসিন সোভিয়েত ইউনিয়নের হয়ে ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৬৬ বিশ্বকাপে খেলেছেন। ষাট সালে তার নেতৃত্বে সোভিয়েতরা জয় করে প্রথম ইউরোপীয়
ফুটবল শিরোপা।
রক্ষণভাগ
বেকেনবাওয়ার
অধিনায়ক হিসেবে জার্মানিকে বেকেনবাওয়ার বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন ১৯৭৪ সালে। কোচ হিসেবে ডাগ আউটে দাঁড়িয়ে জার্মানিকে আবারও বিশ্বকাপ জেতান ১৯৯০ সালে।
ববি মুর
ইংলিশদের একমাত্র
বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেওয়া ববি মুর ইংলিশ ফুটবলের এক অবিসংবাদিত নায়ক। পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন ১৯৯৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি।
রক্ষণভাগ
মালদিনি
ক্যারিয়ারে ২৫টি মৌসুম
একই ছন্দে খেলে যাওয়া এই মালদিনি ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮-এর বিশ্বকাপে খেলা মালদিনি বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন ১৯৯৪ সালে।
কাফু
২০০২ সালে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কাফু। টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দেশের হয়ে মাঠে নামার অনন্য কৃতিত্ব এই রক্ষণ সেনার।
আক্রমণভাগ
পেলে
দেশের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জেতা পেলে ব্রাজিলীয় ফুটবলের অন্যতম বিজ্ঞাপনও বটে। সেরা একাদশে তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলে আসে পেলের নাম।
মেসি
একাদশের একমাত্র হাল আমলের খেলোয়াড়। ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে মেসি টানা চারবারের ফিফা বর্ষসেরা হয়েছেন।
মধ্যমাঠ
ম্যারাডোনা
আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জিততে ম্যারাডোনা ছিল প্রধান ভূমিকা। পরের বিশ্বকাপেও ভাঙা দল নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন একেবারে ফাইনালে।
জিদান
১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক দেশকে বিশ্বজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন ২০০৬ সালেও। ২০০০ সালে ফ্রান্সকে ইউরোপ-সেরা বানিয়েছিলেন আপন কারিশমায়।
স্টেফানো
১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত পাঁচবার ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা রিয়াল মাদ্রিদের এই আর্জেন্টাইন সেনানি সর্বকালের সেরা এই দলে না এনে কোনো উপায়ই ছিল না নির্বাচকদের।
ক্রুইফ
টোটাল ফুটবলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ইয়োহান ক্রুইফের একটা জায়গা বরাদ্দই থাকে যেকোনো নির্বাচিত একাদশে। ক্রুইফ ফুটবল ইতিহাসেরই সর্বকালের সেরা।
