কর্পোরেট ম্যানেজার

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৪, ২০:০৯
দিন শেষে সবকিছু ম্যানেজ করাতেই যেন বর্তমানের সাফল্য। আর কর্পোরেট জগতে এই মানিয়ে নেওয়ার কাজটি করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেন যিনি তিনিই পরিচিতি পান ম্যানেজার হিসেবে। কারও থাকে ব্র্যান্ড নিয়ে ভাবনা, কারও থাকে মার্কেটিং দুনিয়া, কারও কাছে প্রাধান্য পায় সেলস, কেউবা পুরো দেশজুড়ে ব্র্যান্ডকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পান। আমাদের ধারাবাহিক আয়োজনের এই পর্যায়ে বর্তমানে যারা মেধাবী ও পরিশ্রমী হিসেবে সফল বিবেচিত হয়েছেন তাদের কয়েকজনকে নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন ‘প্রজন্মের কর্পোরেট ম্যানেজার’। আয়োজনটি গ্রন্থনা এবং সম্পাদনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার ও সাজেদুল ইসলাম শুভ্র প্রজন্মের কর্পোরেট ব্যবস্থাপক কাজী মোফরাদ মুনতাসির ব্র্যান্ড ম্যানেজার, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড তিনি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে, মার্কেটিংয়ে মেজর নিয়ে। মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের প্রতি তার ভালোলাগা তৈরি হয় ছাত্রজীবনে এ বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে। পেশাজীবনে তিনি মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং নিয়ে আরও গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ পান যখন বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বীকৃত পেইন্ট ব্র্যান্ড বার্জারের মার্কেটিং বিভাগে যোগদান করেন। জানালেন, বার্জারের হেড অব মার্কেটিংয়ের সাথে সরাসরি কাজ করার কারণে মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন ব্যবহারিক জ্ঞানে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। বলছি মোফরাদ মুনতাসিরের কথা। বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডে একজন ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত তিনি। মোফরাদ মুনতাসির বলেন, ‘ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিজের পণ্যকে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দে পরিণত করা। ব্র্যান্ড ম্যানেজারদের দুটি বিষয় সবসময় মনে রাখতে হয়, তা হলো ক্রেতাদের পছন্দ ও মানসিকতা সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং তাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমও একইসাথে পাল্টে যাচ্ছে’ মোফরাদ মুনতাসির মনে করেন, বাংলাদেশ যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশ, তাই ধরে নেওয়া যায় যে যত দিন যাবে, দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডের সংখ্যা বাড়বে। একইসাথে বাড়বে এই পেশায় কাজ করা কর্মজীবীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা।’ মোফরাদ মুনতাসির বাবাকে হারিয়েছেন সেই শৈশবেই। তার মা একজন মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক। যেকোনো ধরনের সমস্যায় মা এখনও তাকে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সমাধানটি দেখিয়ে দেন। জীবনে মা, বোন, দাদী এবং একমাত্র চাচা কাজী নেয়ামাতউল্লাহর অবদান সবচেয়ে বেশি বলে জানালেন তিনি। তার কৈশোর কেটেছে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে। সেখানকার ৬ বছরের আধা-সামরিক জীবনযাপন তাকে শিখিয়েছে নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্ব। ক্যাডেট জীবনের শেষ বছরে তিনি সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রিফেক্টশিপ পান, যা তাকে দিয়েছিল নেতৃত্ব দানের বিষয়টি শেখার সুযোগ। মোফরাদ মুনতাসির স্বপ্ন দেখেন, আমাদের ব্র্যান্ডিং আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাবে একসময়, সেই সময়ও এই জগতের একজন হয়ে অবদান রাখতে চান তিনি। কাজী মোফরাদ মুনতাসির ডাকনাম :মোফরাদ জন্মতারিখ ও স্থান :১ আগস্ট, ঢাকা মায়ের নাম :নইমা আক্তার বাবার নাম :কাজী মো. জয়নুল এমরান প্রথম স্কুল :উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল প্রিয় মানুষ :মা প্রিয় পোশাক :জিন্স ও পাঞ্জাবি অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে, মুভি দেখে সাফল্যের সংজ্ঞা :প্রতিনিয়ত নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং তা অতিক্রম করা। ০০০০০০০০০ ফরিদা ইয়াসমিন পিংকি ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (এইচআর) জিফোরএস সিকিউরিটি সার্ভিসেস শৈশব থেকেই মানুষের মাঝে থাকতে ভালোবাসতেন তিনি, ছিলেন অসাধারণ বন্ধুবত্সল! আর আজ তার উপরেই দায়িত্ব এসে পড়েছে অসংখ্য মানুষকে সম্পদে পরিণত করার, পড়াশোনার সময় থেকেই চেয়েছেন মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করবেন, নিজের যোগ্যতাতেই সেই সুযোগটি করে নিয়েছেন তিনি, শুনছেন ফরিদা ইয়াসমিন পিংকির কথা, যিনি ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বহুজাতিক নিরাপত্তা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান জিফোরএস-এর বাংলাদেশস্থ প্রধান কার্যালয়ে। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করার পরপরই তিনি আর সবার মতো পছন্দসই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ খুঁজছিলেন, নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন চাকরি বিষয়ক ওয়েবসাইটগুলোতে। সেই সূত্রেই তিনি ইন্টারভিউয়ের আমন্ত্রণ পান জিফোরএস-এ, আর প্রথম সাক্ষাতেই চাকরির সুযোগটা পেয়ে গেলেন। এখানে মূলত তাকে কাজ করতে হয় প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে। আর সেই কাজ যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ্যের সাথেই করে যাচ্ছেন তিনি। তরুণ এই কর্পোরেট ব্যবস্থাপক পিংকির কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম, আমাদের দেশে পেশা হিসেবে কতটা উপযোগী তাদের ক্ষেত্রটি আর মেয়েরা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে এখানে। সবার ভালোবাসা পেয়ে পেয়ে আনন্দেই কেটেছে পিংকির শৈশব! বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে জন্ম তার, সেখানেই পার করেছেন ছেলেবেলার উচ্ছ্বল দিনগুলো। খ্যাতনামা বাওয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পরীক্ষা দেন, এইচএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন হাজী মুহম্মদ মহসীন কলেজ থেকে। অতঃপর দেশের অন্যতম সেরা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেন। এর বাইরেও একাধিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। ব্যবসায়ী বাবা আর গৃহিণী মায়ের সংসারে তারা চার ভাই-বোন। বড় ভাই আইন পেশায় নিয়োজিত আর অন্য দু বোন পিয়া ও রাইয়ান এখনও অধ্যয়নরত। ভবিষ্যতে তিনি কর্পোরেট দুনিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন যোগ্য একজন নির্বাহী হিসেবে, সেই কামনা নিরন্তর। ফরিদা ইয়াসমিন ডাকনাম :পিংকি জন্মতারিখ ও স্থান :১২ মে, চট্টগ্রাম মায়ের নাম :রাজিয়া সুলতানা বাবার নাম :নূরুল আফসার চৌধুরী প্রথম স্কুল :শাহ ওয়াইউল্লাহ ইনস্টিটিউট প্রিয় মানুষ :আমার মা প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে যেভাবে :ইন্টারনেট ব্রাউজিং, রান্না করে। সাফল্যের সংজ্ঞা :ভালো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে পারা। ০০০০০০০০০০০ খন্দকার মো. আলী আসিম অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্র্যান্ড ম্যানেজার কনজিউমার ব্র্যান্ড, এসিআই লিমিটেড স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে নটরডেম কলেজে ভর্তি হন। ছোটবেলা থেকেই আউটডোর গেমসের প্রতি ঝোঁক ছিল। কলেজে এসে যোগ হলো ক্লাব অ্যাক্টিভিটিস। এইচএসসি পাস করার পর স্কুলে থাকাকালীন লক্ষ্য অনুযায়ী বিবিএ-তে ভর্তি হলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে। বিবিএ শেষ করলেন ফিন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেজর নিয়ে। তারপর একটি ব্যাংকে কিছুদিন চাকরি করলেন। কিন্তু মন টিকল না। সময়ের সাথে সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করেন। এরই মাঝে বেশকিছু পেশার অভিজ্ঞতা হয়ে যায় যেমন—ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্রেডিং বিজনেস, শিক্ষকতা। এমবিএ শেষ করতে না করতেই চাকরি পেয়ে গেলেন এসিআই লিমিটেডের কনজিউমার ব্র্যান্ড ডিভিশনের মার্কেটিংয়ে এক্সিকিউটিভ হিসেবে। সেই থেকেই মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ডিংয়ে পথচলা শুরু। তিনি খন্দকার মো. আলী আসিম, এই সময়ের সফল একজন ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপক। একজন ব্র্যান্ড নির্বাহী হিসেবে তার কাজ জানতে চাইলে খন্দকার মো. আলী আসিম বলেন, ‘এসিআই লিমিটেডে এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগ দিই মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে। বর্তমানে মার্কেটিংয়ের পরিধি বিশাল। বলা যেতে পারে ব্যবসার পুরো প্রক্রিয়াটিই মার্কেটিংয়ের অন্তর্ভুক্ত। পণ্য প্রস্তুত থেকে শুরু করে তা বিক্রয় সহায়ক করে ভোক্তার সন্তুষ্টি ও ভোক্তার উন্নতির সাথে ব্যবসার প্রসার ও উন্নয়ন সমস্ত কাজই মার্কেটিংয়ের অন্তর্ভুক্ত। আমার দায়িত্ব আমার অধীনে থাকা পণ্যের মাধ্যমে ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং তাদের অন্তর্নিহিত চাহিদা পূরণে নিত্যনতুন পণ্য সরবারহ করা।’ খন্দকার মো. আলী আসিম মনে করেন, যেকোনো কাজে সফলতার জন্য প্রথম প্রয়োজন সততা। দ্বিতীয়ত প্রয়োজন কাজের প্রতি একাগ্রতা। তৃতীয়ত প্রতিটি কাজের প্রতি নিজস্ব দায়িত্ববোধ এবং স্ব-প্রণোদিত আগ্রহবোধই একজনকে এনে দিতে পারে তার পেশা বা কাজে সাফল্য। খন্দকার মো. আলী আসিমের ঢাকায় জন্ম, ঢাকাতেই বেড়ে ওঠা। তিন বোনের একমাত্র ছোট ভাই তিনি। ছোটবেলা থেকেই চুপচাপ স্বভাবের। তিন বোনের বিয়ের পর স্ত্রী আর মা-বাবাকে নিয়েই তার সংসার। স্ত্রী একটি স্বনামধন্য কোম্পানিতে মানবসম্পদ বিভাগে নিজের স্বকীয়তায় এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োজিত আছেন। বাবা ব্যবসায়ী এবং মা গৃহিণী। আত্মীয়-স্বজন সবাইকে নিয়েই আমাদের সুখী পরিবার। নির্ভেজাল জীবন ও সততার সাথে দেশের মানুষের উন্নতি করাই খন্দকার মো. আলী আসিমের স্বপ্ন। খন্দকার মো. আলী আসিম ডাকনাম :লাবিব জন্মতারিখ ও স্থান :০১ নভেম্বর, ঢাকা মায়ের নাম :আসমত আরা বেগম বাবার নাম :খন্দকার মোহাম্মাদ আলী প্রথম স্কুল :আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রিয় মানুষ :মা প্রিয় উক্তি :অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। প্রিয় পোশাক :জিন্স প্যান্ট ও পাঞ্জাবি অবসর কাটে যেভাবে :ভ্রমণ করে ও বই পড়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :বেস্ট ইজ ইয়েট টু কাম।