অপেক্ষাকৃত দুর্বল বা পিছিয়ে পড়া নতুন প্রজন্মের প্রতি একধরনের অনীহা প্রকাশ পায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অনেক সময় পরিবারেও। যা তাদের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং ক্ষেত্রবিশেষে অনেকের শিক্ষাজীবনও হুমকির মুখে পড়ে। এমনই অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে এবার কিছু পরামর্শের কথা জানিয়েছেন উত্তরার আই. ই. এস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী মো. মনজুরুল হক
অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া বা দুর্বল নতুন প্রজন্মের ব্যপারে প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের একটা অতিরিক্ত নজর সাধারণত থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠান এমন শিক্ষার্থীদের পৃথক শ্রেণীকক্ষে নিয়েও পড়ায়। আমার দৃষ্টিতে এটাই বড় সমস্যা। কারণ, এই পৃথক করার মাধ্যমে দুর্বল বা পিছিয়ে পড়া হিসেবে প্রকাশ্য স্বীকৃতি দেওয়া হয় তাদের। এতে পিছিয়ে পড়াদের মানসিকভাবে আরও পিছিয়ে দেয় বলে আমি মনে করি। আসলে এমন বয়সে মনস্তাত্ত্বিক এই বিষয়গুলোকে আমরা মোটেও গুরুত্ব দিই না। অথচ এই বিষয়গুলোই তাদেরকে প্রভাবিত করে। হাতের পাঁচ আঙ্গুল যেমন এক নয়, তেমনি সকল ছেলেমেয়েদের, স্বরণশক্তি, আগ্রহ একরকম নয়। ফলে পড়াশোনায় কৃতকার্যের বিষয়টি ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে এবং এটাই স্বাভাবিক। ফলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের একেবারে ঢাকঢোল পিটিয়ে পৃথক না করে শিক্ষক নীরবে সচেতনতা অবলম্বন করলেই যথেষ্ট। বিশেষ করে তাদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে তাদের দুর্বলতাগুলো জানার চেষ্টা করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় দিয়ে বিশেষায়িত শিক্ষকের মাধ্যমে তার সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করলেই যথেষ্ট। অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া দুর্বল শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত নার্সিংয়ের মাধ্যমে সামনে নিয়ে আসার প্রাণন্তকর প্রয়াস আমাদের রয়েছে। লেখাপড়ায় মনোযোগী-অমনোযোগী এবং অগ্রসর ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের যথাযথ বিন্যস্তকরণ ও তদানুযায়ী উপযুক্ত পাঠ উপস্থাপন করার বিশেষ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয় এখানে। আমরা সাধারণত মধ্য বা নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা দিয়ে ভালো ফলাফল করার চেষ্টা করছি। শুধু লেখাপড়া বা পাস ফেলের বিচারেই নয়, এলাকাভিত্তিক মেধাবী কন্টেস্টে যেমন—বিজ্ঞান মেলায়, বিটিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং খেলাধুলায়ও আমার আই. ই. এস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা শীর্ষস্থানসহ বিভিন্ন বিভাগে মেধার স্বাক্ষর রাখছে। তারা অংশগ্রহণ করছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, স্কাউট ও বিএনসিসি কার্যক্রমেও। প্রতিষ্ঠানটি উত্তরা মডেল টাউনের ৬/এ সড়কে সবুজ মাঠ বেষ্টিত নিজস্ব ভবনে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ একঝাঁক শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আবাসিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত অলাভজনক একটি আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের দেওয়া হয় ফ্রি আবাসন সুবিধা এবং আমাদের আছে সমৃদ্ধ পাঠাগার, আধুনিক বিজ্ঞানাগার ও কম্পিউটার ল্যাবসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।
আমাদের রয়েছে তথ্য সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট-ww w.deb108570.dhakaeducatinboard.gov.bd, E-mail: iesschoolandcollege¦gmail.com । আমাদের সকলেরি মূল প্রচেষ্টা হওয়া উচিত সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। নতুন প্রজন্মের জন্য তা-ই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য।
