স্বপ্নের পথ ধরে

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৪, ২০:০৯
সফল ক্যারিয়ার গড়তে নতুন প্রজন্ম বর্তমানে বেশি ঝুকছে গ্লোবাল চাহিদা এবং চাকরির ক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রাধান্য এমন কোর্সের দিকে। এ ধরনের কোর্সের অন্যতম হচ্ছে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং ডিগ্রি। বাংলাদেশে এই কোর্সটি ২০০১ সাল থেকে সবচেয়ে সাফল্যজনক হারে পরিচালনা করছে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ। এই কোর্সের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি কথা হয় চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. আনিসুর রহমান খানের সাথে। এ নিয়ে এবারের আয়োজন এদেশে পেশাদারী কোর্সের স্বল্পতা, বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রি গ্রহণের জটিলতা প্রভৃতি কারণে বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের অনেক কোর্স করতে পারে না। কিন্তু শিক্ষার্থী যেকোনো বিভাগে হতে পাস করে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং বা ব্রিটিশ সিএ সম্পন্ন করে বিশ্বের যেকোনো দেশে চাকরি করার সুযোগ পেতে পারে। এই আন্তর্জাতিক প্রফেশনাল ডিগ্রির অন্যতম হচ্ছে এসিসিএ, সিএটি। এটি ব্রিটিশ কারিকুলামের সিএ ডিগ্রি এবং এর রয়েছে পুরো বিশ্বজুড়ে গ্রহণযোগ্যতা। এদেশে হাতে গোনা কিছু প্রতিষ্ঠান এই আন্তর্জাতিক প্রফেশনাল ডিগ্রি পরিচালনা করছে। এটি সম্পন্ন করে অ্যাকাউন্ট্যান্টস প্রফেশনাল হওয়া যায়। এসিসিএ বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং বডি। এটি ১৯০৪ সালে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রায় ১৭৩টি দেশে এসিসিএ’র ৩ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী ও প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার সদস্য রয়েছে। ৮০টি দেশে এসিসিএ’র নিজস্ব অফিস রয়েছে এবং বাংলাদেশেও এসিসিএ অফিস খুলেছে। এই কোর্সে মূল বডি একই হওয়ার কারণে ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের ১৭৩টি দেশে পড়াশোনার জন্য পুরোপুরি ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়। শুরুতে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিংসের ভূমিকা সম্পর্কে ড. আনিসুর রহমান খান এমনই বলেন। তিনি বলেন, ক্যারিয়ার গড়তে প্রফেশনালদের কাছে এসব কোর্সের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিবিএ-এমবিএ পড়তে হলে এইচএসসি পাসের পর বিবিএ’র জন্য ৪ বছর স্নাতক ডিগ্রির পাসের পর এমবিএ’র জন্য ২-৩ বছর অর্থাত্ প্রায় ৬-৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু এইচএসসি-স্নাতক ডিগ্রির পর যেকোনো শিক্ষার্থী ৩-৪ বছরে আন্তর্জাতিক মানের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে পারে একই সাথে পেতে পারে অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড অ্যাকাউন্টিংসে অনার্স ডিগ্রি। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিবিএ-এমবিএ’র সময় ও অর্থব্যয় কত বেশি। সে তুলনায় প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং কোর্স করতে তুলনামূলক খরচ হয় অনেক কম। অন্য দিকে এসিসিএ বিষয়ে ১০০ নম্বরে পরীক্ষার্থী ৫০ পেলেই পাস করে। আর এর পরীক্ষা পদ্ধতি অনেক সহজ। এইচএসসি’র উত্তীর্ণের পর এত কম সময়ে এসিসিএ এবং অ্যাপ্লাইড অ্যাকাউন্টিংয়ে বিএসসি অনার্স অর্জন করা শিক্ষার্থীদের জন্য অসাধারণ সুযোগ। তিনি বলেন, বছরে জুন ও ডিসেম্বরে দুইবার ব্রিটিশ কাউন্সিলে একসাথে একটি থেকে চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়। তবে কম্পিউটার বেজড পরীক্ষা বছরের যেকোনো সময় যেকোনো দিন হতে পারে। যদি কেউ একটি বিষয়ে ফেল করে তবে শুধু ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে পারে। যে কারো এইচএসসি বা ও-লেভেল করা থাকলে সিএটি করতে পারে। কোর্সটি একবারে শুরু থেকে পড়ানো হয়। এটি পাস করার পর এসিসিএর তিনটি বিষয় এফ-১,এফ-২, এফ-৩ শেষ হয়ে যায় এবং সরাসরি এসিসিএ কোর্সে ভর্তি হতে পারে। অন্যদিকে এইচএসসি বা ও লেভেল শেষে এফডি (ফাউন্ডেশন ডিপ্লোমা)-তে ভর্তি হয়ে সিএটি সম্পন্ন করতে পারে। এছাড়া এফডি, সিএটি সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা এসিসিএ স্কিলস মডিউলে জয়েন করতে পারে। আবার এ-লেভেল বা যেকোনো বিভাগ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি করা থাকলে সরাসরি এসিসিএ ক্লাসে ভর্তি হওয়া যায়। তবে কারো অনার্স, মাস্টার্স, সিএ, আইসিএমএ কোয়ালিফিকেশন থাকলে ৯টি বিষয় পর্যন্ত অব্যাহতি পেতে পারে। তিনি জানান, আমরা কোয়ালিটিতে বিশ্বাসী। যে কারণে বাংলাদেশে এ ধরনের ডিগ্রি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ সবচেয়ে বেশি সুনাম অর্জন করে চলেছে। সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই কোর্সটি পরিচালনার জন্য আমাদের রয়েছে চমত্কার সেটআপ । এখানে কেবল সেই শিক্ষকরা ক্লাস নেন যারা সিএটি-এসিসিএ সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এছাড়া আমরা নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার বেজড পরীক্ষার প্র্যাকটিস করিয়ে থাকি। ফলে ছাত্রছাত্রীরা ফাইনাল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল লাভ করে। www.cucedu.com বিস্তারিত রয়েছে। আমাদের রয়েছে একাধিক ক্যাম্পাস। এছাড়াও এসিসিএ ফান্ডামেন্টাল লেভেল শেষ করার পর বিএসসি (অনার্স) ইন অ্যাপ্লাইড অ্যাকাউন্টিংস ডিগ্রি পাওয়ার জন্য আমরা একাডেমিক ও মেন্টরস সাপোর্ট দিয়ে থাকি।