জঙ্গিদের বড় হামলার আশঙ্কা গোয়েন্দাদের

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ২২:৫৮

জঙ্গিরা দেশে বড় হামলার পরিকল্পনা করেছে। আর এ লক্ষ্যে সম্প্রতি আগাম বার্তা হিসেবে রাজধানীর গুলিস্তান ও মালিবাগে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। সবচেয়ে বড় দুর্ভাবনার বিষয় হলো, এ দুটি ঘটনার দায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) স্বীকার করেছে। গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, দেশে বড় ধরনের নাশকতা ও হামলার পরিকল্পনা করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও সারাদেশে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আইএস’র সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে এসে সংগঠিত হচ্ছে কি না, জঙ্গি সংগঠনগুলো এতোদিন চুপ করেছিল তারাও আবার চাঙ্গা হচ্ছে কি না, যেসব যুদ্ধাপরাধীর সাজা হয়েছে তাদের স্বজনদের ষড়যন্ত্র আছে কি না, বড় হামলার পরিকল্পনা হিসেবে   দুটি হামলা রিহার্সেল হিসেবে ব্যবহার হয়েছে কি না-এসব সার্বিক বিষয় এখন খতিয়ে দেখছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত সোমবার মালিবাগে জঙ্গি হামলার সময় ওই এলাকার সিসিটিভি বন্ধ ছিল। আর এটা ২৯ এপ্রিল গুলিস্তানের হামলার চেয়ে শক্তিশালী ছিল। সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে হামলা প্রসঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে। পুলিশের মনোবলকে ভেঙ্গে দেওয়ার লক্ষ্যে এই হামলা হতে পারে। জানা গেছে, ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে বড় মার্কেটসহ জনসমাগম, ঈদের জমায়েত, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের সকল ইউনিটকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। হামলার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আইএস এর দায় স্বীকারের বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃ?ষ্টি?তে রয়েছে। এ ব্যাপারে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে।  তবে এখন পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে আইএস এর কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি বলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়। 

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) মো. আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, সরকারবিরোধীরা এসব জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। এছাড়া জেএমবি, হরকাতুল জিহাদসহ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো ফের সক্রিয় হতে পারে। এসব বিষয়টি মাথায় নিয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজধানীতে নিরাপত্তা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।