প্রবীণ ফটো সাংবাদিক জহিরুল হকের ইন্তেকাল

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৪, ২২:০৫
প্রবীণ ফটো সাংবাদিক জহিরুল হক আর নেই। শনিবার রাতে ভারতের নয়া দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে ...... রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। পুত্রবধূ সাজিয়া জহির এই প্রবীণ ফটো সাংবাদিকের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আব্বা শনিবার দিবাগত রাতে দিল্লিতে মারা গেছেন। রবিবার তার মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। ৫ জুন জহিরুল হককে দিল্লির ইনস্টিটিউট অব লিভার অ্যান্ড বিলুরিয়াল সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, ১২ জুন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। জহিরুল হক দীর্ঘদিন ধরে জন্ডিসে ভুগছিলেন। দিল্লি পাঠানোর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন তিনি। জহিরুল হক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার ছিলেন। এছাড়া তিনি ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কলকাতার ‘দৈনিক আজকাল’ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেন। পাকিস্তান আমলে তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক আজাদ পত্রিকায় কাজ করেন। তিনি বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ ও বাংলাদেশ টাইমসেও কাজ করেন। জহিরুল হক বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেসক্লাব, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়। এই সংগঠনের সভাপতির পদে একাধিকবার ছিলেন তিনি। ২০০৬ সালের ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন জহিরুল হক। এ ঘটনায় দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর শোক বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশিষ্ট সাংবাদিক আলহাজ্ব জহিরুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী রবিবার এক শোকবার্তায় বলেন, তার মৃত্যুতে জাতি এক নির্ভীক, নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিককে হারিয়েছে। জহিরুল হকের মৃত্যুতে দেশের সংবাদপত্র জগতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হবার নয়। এছাড়া ফটো সাংবাদিক জহিরুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ।