প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বৃক্ষ নিধনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যারা আন্দোলনের নামে বৃক্ষ নিধন ও মানুষ হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এসব করার সাহস না পায়।
গতকাল রবিবার বিকালে গণভবনে কৃষক লীগ আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে অন্তত তিনটি বৃক্ষ - একটি বনজ, একটি ফলজ ও একটি ভেষজ গাছের চারা রোপণের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজে বৃক্ষরোপণ করুন এবং সকলকে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উত্সাহ প্রদান করুন। কৃষক লীগ নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা সমগ্র বাংলাদেশ সফর করবেন। প্রত্যেক জেলায় টিম গঠন করে দিবেন, সেই টিম উপজেলায় যাবে, উপজেলা থেকে ইউনিয়ন, ইউনিয়ন থেকে গ্রামে-গ্রামে গিয়ে টিম গঠন করে বৃক্ষরোপণ করুন। কত গাছ লাগানো হয়েছে সে হিসাবও দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৮৪ সাল থেকে দল হিসেবে বৃক্ষরোপণ করে আসছে। আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে সামাজিক বনায়নের ব্যাপক উন্নয়ন হয়। আগে বনের রক্ষকই ভক্ষক ছিল, এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির কারণে এখন জনগণ লাভবান হয়েছে। সরকারের এসব সফলতা প্রচারের জন্য তিনি কৃষকলীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১ লাখ ৭০ হাজার একর জমি বনভূমি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হচ্ছে। আগামীতে বিশ্ব জলবায়ুর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এজন্য আগে থেকেই পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি। উদ্বোধনী বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ফলজ, বনজ ও ভেষজ চারাগাছ বিতরণ করেন এবং গণভবনের পশ্চিম মাঠে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন।
কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য রহমত আলী এমপি, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
