ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গতকাল রবিবার প্রথম সফরে ভুটান গেলেন নরেন্দ্র মোদী। ভুটান পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর তিনি ভুটানের রাজা ও প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ভুটানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গের যেসব বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ভুটানের মাটি থেকে ভারতের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাদের বিরুদ্ধে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করবে ভুটান সরকার। ভুটানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে কামতাপুর লিবারেশন অরগানাইজেশন (কেএলও) আলাদা রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন করছে। কেএলও পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা এবং আসামের কোকরাঝাড়, বনগাইগাঁও, ধুবরি ও গোয়ালপাড়া নিয়ে কামতাপুর রাজ্য গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। ভুটানে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী নিজ দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই সংগঠনটি এবং এদের আন্দোলনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া তিনি ভুটানে চীনের স্বার্থের বিষয়টিও মাথায় রাখছেন। চীন ভুটানে দূতাবাসসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ভুটান যে ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম সফর করার মাধ্যমে তা বুঝিয়ে দিলেন মোদী। বাংলাদেশ ছাড়া ভুটানই ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) গত শাসনামলের শেষ দিকে ভুটান কেএলও’র বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল। ২০০৩ সালের ওই অভিযানে দক্ষিণ ভুটান থেকে উলফা, বোদো বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং কেএলও’র মোট ৩০টি ক্যাম্প গুড়িয়ে দিয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। ভুটানের সঙ্গে ভারতের ৬৯৯ কিলোমিটারের স্থল সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীই সতর্কতার সঙ্গে সীমান্তে দায়িত্বে পালন করে থাকে এবং বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরসঙ্গী হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংসহ অনেকে। ভুটান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারত সরকারের অর্থায়নে নির্মান করা সুপ্রিম কোর্টের একটি ভবন উদ্ভোধন করেন। এছাড়া তার পার্লামেন্টর এক যৌথ অধিবেশনেও ভাষণ এবং ৬০০ মেগাওয়াটের একটি জলবিদ্যুত্ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের কথা রয়েছে।
