আজ নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস

প্রতিদিন মারা যাচ্ছে ১৪ প্রসূতি মা

আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ০০:২৯

সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতায় দেশে প্রতিদিন ১৪ প্রসূতি মা মৃত্যুবরণ করেন। এই হিসেবে বছরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪৭৩ জনে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ রক্তক্ষরণ ও খিঁচুনি। তবে এই দুইটি কারণ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ যোগ্য। এই দুইটি কারণ প্রতিরোধ করে মাতৃমৃত্যু আশানুরূপ কমিয়ে আনা সম্ভব। 

ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুয়ায়ী, দেশে প্রতি বছর ৩১ লাখ শিশু জন্ম দিতে গিয়ে ৫ হাজার ২৭০ জন মারা যান। অর্থাত্ ৬০০ শিশু জন্ম দিতে গিয়ে একজন মা মারা যান। মাত্র ৪২ শতাংশ প্রসব প্রশিক্ষিত সেবিকার হাতে হয়ে থাকে। বাকি ৫৮ শতাংশ গর্ভবতী নারীর প্রসব হয়ে থাকে অপ্রশিক্ষিত ধাত্রী বা আত্মীয়-স্বজনের হাতে। এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ গর্ভবতীর প্রসব হয় বাড়িতে। মাত্র ৩৭ শতাংশ গর্ভবতীর ক্লিনিক বা হাসপাতালে প্রসব হয়ে থাকে। মা ও শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ বাড়িতে অপ্রশিক্ষিত ধাত্রী বা আত্মীয়-স্বজনের হাতে প্রসব করানো।

দেশের এমন পরিস্থিতিতে আজ ২৮ মে দেশে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস-২০১৯ পালিত হবে। এবছর দিবসের প্রতিপাদ্য নিধারিত হয়েছে— ‘মর্যাদা ও অধিকার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রসূতি সেবার অঙ্গীকার’। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) শোভাযাত্র, আলোচনা সভা ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার আয়োজন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শতকরা মাত্র ৬৮ ভাগ গর্ভবতী নারী একটি প্রসবপূর্ব সেবা এবং ২৬ ভাগ নারী চারটি প্রসবপূর্ব সেবা নিয়ে থাকেন। পাশাপাশি বেড়েছে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা, যা অনেকাংশেই মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ সভাপতি অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, প্রসব পরবর্তী সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাতৃমৃত্যুর ৫৫ ভাগ মৃত্যুই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংঘটিত হয়। তিনি বলেন, মাতৃমৃত্যুর পরোক্ষ কারণ যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস, নারী সহিংসতা। এসবের কারণে আগের চেয়ে মাতৃমৃত্যুর হার বেড়েছে।