লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ফুলবাড়ি চা বাগানের প্রাচীনতম ৩৬০০টি ছায়াবৃক্ষ কেটে ফেলা হয়েছে। চা বাগান কর্তৃপক্ষ নিজেদের প্রয়োজনে মূল্যবান প্রজাতির এসব গাছ সম্প্রতি বিক্রি করেছেন। চাম, জাম, শিরিষসহ বিভিন্ন প্রজাতির এসব গাছ কেটে ফেলায় জাতীয় উদ্যান এলাকার পাখির আবাসস্থল ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চা বাগান ব্যবস্থাপক বাগানের ভালোর জন্যই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও ফুলবাড়ি চা বাগানের মাঝ দিয়ে চলে গেছে শমশেরনগর-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ। সড়কপথের পশ্চিম পাশে জাতীয় উদ্যান ও পূর্ব পাশে এম. আহমদ টি কোম্পানির ফুলবাড়ি চা বাগান। বিশাল এই বাগানে চা গাছের ছায়াবৃক্ষ হিসাবে প্রায় দীর্ঘ ৫০ থেকে একশ’ বছর ধরে চাম, জাম, শিরিষসহ মূল্যবান প্রজাতির অসংখ্য গাছ-গাছালি বেড়ে উঠেছে। এসব গাছের খন্ডাংশ বাগানের এখানে সেখানে পড়ে আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফুলবাড়ি চা বাগানের দু’জন শ্রমিক সর্দার জানান, গত জানুয়ারি মাসে বাগানের পুরনো ৩ হাজার ৬শ’টি গাছ ৪ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। কেটে ফেলা ঐসব গাছের খন্ডাংশ এখনও নেয়া হচ্ছে। এমনকি হাতি লাগিয়েও গাছ উদ্ধার করছে ক্রেতা।
ফুলবাড়ি চা বাগান ব্যবস্থাপক মো. লুত্ফুর রহমান ৩৬০০ গাছ বিক্রির সত্যতা নিশ্চিত করে মোবাইল ফোনে এই প্রতিনিধিকে বলেন, বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় বাগানের ভালোর জন্যই অনুমতি ক্রমে এগুলো বিক্রি করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু জানতে চাইলে তিনি কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গলস্থ মহকুমা বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুজ জামান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফুলবাড়ি চা বাগানের গাছ বিক্রির অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।
জানা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ২৪৬ প্রজাতির পাখি রয়েছে। এসব পাখি জাতীয় উদ্যান ও উদ্যান সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন গাছে গাছে ঘুরে বেড়ায়, খাবার সংগ্রহ করে ও আবাসস্থল গড়ে তোলে। পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের মৌলভীবাজারের যুগ্ম-সম্পাদক বিশ্বজিত্ ভট্টাচার্য বাপন বলেন, প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা প্রাচীন বৃহদাকার গাছগুলো ছিল পাখিদের বিচরণ ভূমি। গাছগুলো কাটার ক্ষতি পুষিয়ে উঠার নয়।
লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণি বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মরতুজ আলী ইত্তেফাককে বলেন, পশুপাখির বাসস্থান ও তাদের খাবারের জন্য প্রাচীনতম গাছগুলো খুবই প্রয়োজন। এক সাথে এতগুলো গাছ কেটে ফেলা খুবই দুঃখজনক। তবে বন্যপ্রাণি বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, টি গার্ডেনের আলাদা একটা ‘ইকো সিষ্টেম’ রয়েছে। সে জন্য তাদের বিষয়ে কিছু মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, মাগুরছড়া গ্যাস কূপটিও ফুলবাড়ি চা বাগান সংলগ্ন এলাকায়। ১৯৯৭ সনে গ্যাস কূপটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। সে সময় ক্ষতিগ্রস্ত বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। এর মধ্যেই প্রাচীনতম এই গাছ-গাছালি কেটে ফেলায় লাউয়াছড়া উদ্যানের পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে আশংকা সংশ্লিষ্টদের।
