বৈদেশিক মুদ্রার মজুদে আবারো রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এবার দুই হাজার ১০০ কোটি (২১ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়েছে। দেশের রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায় এ রিজার্ভ বেড়েছে। রিজার্ভের এ অর্থ দিয়ে দেশের জন্য সাত মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ২১ দশমিক তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। তবে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৭ মে রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। এরপর একই বছরের ১৯ ডিসেম্বর ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। একইভাবে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং ১০ এপ্রিল ২০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। রিজার্ভের দিক দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।
রিজার্ভ বিষয়ে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করায় খাদ্য আমদানিও আগের তুলনায় কম হচ্ছে। যার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ একের পর এক রেকর্ড অর্জন করছে। পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। গভর্নর আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ শক্তিশালী রিজার্ভ থেকে শিগগিরই পদ্মাসেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। তিনি বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণে সরাসরি রিজার্ভের অর্থ ব্যবহার করা হবে না। এ সেতু নির্মাণে যে সব দেশ বিনিয়োগ করবে, রিজার্ভের অর্থ দিয়ে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান করা হবে।
