বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিকে ‘কার্বাইড ও ফরমালিনযুক্ত’ ফলের সঙ্গে তুলনা করলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও অন্তর্ঘাতমূলক সহিংসতার রাজনীতি করে তারা গণতন্ত্রের জন্য উপযুক্ত নয়। কার্বাইড ও ফরমালিনযুক্ত এমন ফলকে যেমন খাবারের টেবিলে আনা যায় না, তেমনি জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসকেও সংলাপের টেবিলে আমন্ত্রণ জানানো যায় না, এসব পোকা-মাকড়কে কীটনাশক দিয়ে দমন করতে হবে। বিএনপি-জামায়াতকে নিয়ে আর সংলাপ ও নির্বাচন নয়। গতকাল প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি-জামায়াত না আসায় ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নাকি সিদ্ধ হয়নি। খালেদা জিয়া দেশকে অশুভ চক্রান্তে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন, তিনি সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে ছুঁড়ে ফেলার চক্রান্ত করেছিলেন। যার কারণে এদেরকে নিয়ে সিদ্ধ নির্বাচন হয় না। বরং দেশে জঙ্গিবাদ থাকবে কী থাকবে না, গণতন্ত্রের মাঠে এদের খেলতে দিব কিনা- তা ফয়সালার জন্য জাতীয় সংলাপ হতে পারে। এটির ফয়সালা ছাড়া কোনো আলোচনা হতেই পারে না।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান (বগুড়া-১) তার বক্তব্যে জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সমালোচনা করেন। এরশাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি ইদানীং কিছু কথা বলছেন। অবশ্য রওশন এরশাদ বাজেট নিয়ে কিছু গঠনমূলক কথা বলেছেন। রংপুরে এরশাদ বললেন- এই নির্বাচন কোনো নির্বাচনই না, আমি নির্বাচন করিনি, কীভাবে এমপি হলাম নিজেই তা জানি না। আপনি (এরশাদ) যদি নির্বাচন করতে না চান, তাহলে আপনি নিজে কী স্বাক্ষর করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি? নির্বাচন পছন্দ না হলে আপনি এমপি হিসেবে শপথ নিলেন কেন? আপনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর পুরো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, এটির ওপর ভর করে চলছেন আপনি।’
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে আব্দুল মান্নান বলেন, আদব-কায়দা নাই বলে তাকে অনেকে ‘বেয়াদব’ বলেন। তার সম্পাদিত বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানের নামে বিএনপি নাটক করেছে। তারেক রহমান লন্ডনে বসে একের পর এক নানা কথা বলছেন। নিজের ওজন বুঝে কথা বলা উচিত। শিক্ষারও একটি বিষয় আছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া, আপনি আপনার দুই সন্তানকে লেখাপড়া করাননি। তারেক নাকি এসএসসি পাস, কোকোর (আরাফাত রহমান কোকো) লেখাপড়া কি জানি না। আপনি (খালেদা জিয়া) নিজেও ৮ম শ্রেণী পাস, সেখানেও অনেক ভেজাল। দুই ছেলেকে লেখাপড়া করানোর জন্য সরকার থেকে যে ভাতা নিয়েছেন, আপনার উচিত এখন সেটি ফেরত দেয়া। তারেক যে লেখাপড়া করেছেন, তাতে বড়জোর তিনি পিয়নের চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।’
আওয়ামী লীগের সাবেক এই প্রচার সম্পাদক আরও বলেন, তারেক রহমান দেশে আসছেন না কেন? তিনি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ঘুরে বেড়ান, বড় বড় কথা বলেন। লন্ডনে বসে থেকে রাজা-বাদশা হতে চান অথচ দেশে আসেন না। রাজনীতি করতে চাইলে দেশে আসুন, আপনার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই, আছে হত্যা মামলা, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় হত্যার মামলা আছে আপনার বিরুদ্ধে।
সংলাপের জন্য বিএনপির দাবির বিষয়ে মান্নান বলেন, শীতকালের ওয়াজ গরমকালে করলে মানুষ পাওয়া যায় না। খালেদা জিয়া আজ উজান থেকে ভাটির দিকে আসছেন। দেশটা কী আপনার বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি যে, আপনি যা বলবেন তা হবে? ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী আপনাকে ফোন করেছিলেন। ৩৭ মিনিটের মধ্যে ৩৫ মিনিটই আপনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।
আওয়ামী লীগের মৃণাল কান্তি দাস বলেন, বিএনপি এখন সরকারকে অবৈধ বলছে। বলা হচ্ছে, এই সরকার নাকি জনগণের ভোটে আসেনি। জিয়াউর রহমান তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসেননি, গণতন্ত্র হরণ করে ও সংবিধান তছনছ করে তিনি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। সুতরাং বিএনপির মুখে এখন এই সরকারকে ‘অবৈধ’ বলা মানায় না।
জাপার সংসদ সদস্য বেগম মাহ্যাবীন মোরশেদ বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বিশাল অঙ্কের এই বাজেট বলতে গেলে স্বপ্নবিলাসী, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন ছাড়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিলাসবহুল হলেও এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব, যদি আমরা সত্যিকারের সোনার বাংলা ও সোনার মানুষ হতে পারি। তাহলে বিশ্বে আমাদের জন্মভূমি হবে হীরার দেশ। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের ওপর দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে। বাংলাদেশে মাছের একমাত্র প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী সংরক্ষণ, চতুর্থ কর্ণফুলী সেতু স্থানের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ সহজকরণ, যানজট নিরসনে আউটার রিং রোড নির্মাণ এবং আনোয়ারায় নতুন শহর ও রেল-নৌসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে স্থানান্তরের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখেন তিনি।
ভোলার এমপি নূরন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, যারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জঙ্গিবাদের চাষ করেছিল তারাই এই বাজেটের বিরুদ্ধে বলেছিল। বঙ্গবন্ধু পরিবার ও এই সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তারাই যারা মুক্তিযুদ্ধকে ‘গণ্ডগোল’ বলে আখ্যায়িত করে। লন্ডনে বসে মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সাহস তারেক রহমান কোথায় পান?
আওয়ামী লীগের নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ধারায় ফিরিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল।
