বরাদ্দ অর্থে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৪, ২০:৪৮
শিক্ষা বাজেট নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, প্রস্তাবিত ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই বাজেট দিয়ে শিক্ষার সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে পৃথক বরাদ্দ প্রয়োজন। মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট অব মাউক্রোফিন্যান্স (আইএনএম) ও বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ (বিউপি) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিক্ষা বাজেট-২০১৪ : জাতীয় সংলাপ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। সভায় আইএনএম’র নির্বাহী পরিচালক ড. এম এ বাকী খলিল, বিউপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ইকরামুল কবির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় মূল বক্তব্যে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, বাজেট নিয়ে মানসিকতা বদলানো প্রয়োজন। প্রদত্ত বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার, ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অপচয় রোধ এবং সরকারের দিক থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধির অপরিহার্যতা উপলব্ধিতে আসা দরকার। কাজী ফারুক আহমেদ তার মূল প্রবন্ধে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় অধিক গুরুত্ব ও এখাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানান। তিনি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় শিক্ষার সাথে সঙ্গতি রেখে অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ প্রয়োজন। এছাড়া শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টে সরকারের বিশেষ সহায়তা প্রদানের পক্ষে মত দেন। শিক্ষা বন্ড চালু ও স্কুল পরিচালনা কমিটি নির্দলীয় করার দাবি জানান তিনি। তিনি মনে করেন, স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন এবং পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের লক্ষ্যে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ধাপে ধাপে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু বর্তমান বাজেটে অথবা এক বাজেটে সব অর্জনের প্রত্যাশা বাস্তব সম্মত নয়। সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বর্তমানে শিক্ষার মান যে দুর্বল এটা পরিষ্কার। শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু তাদের দক্ষতা বাড়ছে না। আমরা বাজেটে শিক্ষাখাতে ২০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি করেছিলাম। আমরা জানি, একবারে এটা করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে করতে হবে। কিন্তু এবারও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ১৩ শতাংশের কম। এ দিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন সম্ভব নয়। সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহবান জানান। এবার শিক্ষাখাতে বরাদ্দের হার রাখা হয়েছে ১১.৬৬ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর বেশির ভাগই ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হবে। বেগবান করা হবে প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান পদ্ধতি ও অবকাঠামো নির্মাণের চলমান কার্যক্রম। উদ্যোগ নেয়া হবে প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সব স্তরে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত গ্রহণযোগ্য মাত্রায় নামিয়ে আনতে। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নির্ধারণের লক্ষ্যে সব প্রথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি চালুর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেট বরাদ্দের ৬.২০ শতাংশ।