চলছে আমের মৌসুম। রসালো আর সুস্বাদু ফল হিসেবে আমের কদর সর্বত্র। আম, জাম, কাঁঠাল ও কলাসহ নানাবিধ ফলদবৃক্ষে একসময় প্রাচুর্যময় ছিল বাংলার গ্রামগুলো। প্রায় প্রত্যেক বাড়িতে, বাড়ির আশেপাশে, বাগানে ছিল আমের গাছ। গ্রামীণ জনপদে বেড়ে ওঠা প্রায় প্রত্যেকের দুরন্ত কৈশোরের সঙ্গে মিশে আছে গাছে উঠে আম খাওয়া অথবা আমকুড়ানোর স্মৃতি। মধুমাসে প্রতিবেশী অথবা নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে আমসহ অন্যান্য ফল পাঠানো আমাদের শাশ্বত ঐতিহ্যেরই অংশবিশেষ। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কারণে মানুষ এখন আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। খেয়ে-পরে নিজের মতো করে বেঁচে থাকাটাই এখন বড় বাস্তবতা। তাই স্বার্থ ছাড়া কোনো কিছু দান করার মহত্ প্রবণতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে মানুষ। অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন বাণিজ্যিকভাবে আমের উত্পাদন হচ্ছে। উত্পাদনকারী ছাড়া অন্যরা এখন প্রায় ক্রয় করে আম খাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। এখনকার শহরকেন্দ্রিক জীবনে সরাসরি গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। কিনে আম খাওয়ার ওপরই নির্ভরশীল শহুরে মানুষ। বাহারি রঙের আম পাওয়া যাচ্ছে শহরের ছোট-বড় ফলের দোকানে, রাস্তায়, মোড়ে অথবা ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার কাছে। কীভাবে আমগুলো দিনের পর দিন তরতাজা থাকছে তা আমাদের সবার জানা। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, প্রায় সব বিক্রেতাই সাইনবোর্ড দিয়ে লিখে রেখেছে “১০০% ফরমালিনমুক্ত আম।” একটি মিথ্যাকে সত্য বলে প্রচারের অপচেষ্টা এখন সর্বব্যাপী। দোকান থেকে ক্রয়কৃত যে আম আমরা খাচ্ছি তা কতটুকু ভেজালমুক্ত এ ব্যাপারে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। বাজারে ফরমালিনমুক্ত আম বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসন সম্প্রতি মহত্ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রত্যাশা করি, এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তবে মনে রাখতে হবে এটি শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এ ব্যাপারে আমাদের সবার অংশগ্রহণও জরুরি। ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই কেবল আমরা ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করতে পারি। শুধু আম নয়, সবরকম খাবার হোক বিষমুক্ত।
ঢাকা
