সেবার নামে হয়রানি!

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৪, ২১:১৩
দেশকে উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চালাতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা প্রশংসিত হয়েছে সর্বত্র। সেইসঙ্গে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারি দপ্তরগুলোতে বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের যন্ত্রপাতিও দেওয়া হয়েছে । দেশের নাগরিক হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে তার জন্ম সনদ। আর তা নিবন্ধন করতে হয় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে। এর জন্য বয়সের ওপর ভিত্তি করে সরকার নির্ধারিত ফিও ধার্য রয়েছে। সাধারণত এ কাজগুলো করে উদ্যোক্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা পৌরসভা। দেখা গেছে এসব উদ্যোক্তার কাছ থেকে কোনো জন্ম নিবন্ধন করার জন্য দিতে হচ্ছে শত শত টাকা এবং কারো জন্ম সনদে ভুল থাকলে তো কথায় নেই। বলা হয় উপরমহলের বাধা-নিষেধের কথা। দেশের গ্রাম পর্যায়ে এই ডিজিটাল সেবা দেওয়ার বিনিময়ে সরকার স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে কোনো অর্থ নিচ্ছে না বরং সরকার তাদেরকে জনগণের সেবার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন পেতে অনিয়মের প্রমাণ দেখা যাচ্ছে যত্রতত্র। সারা দেশে এখন ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলছে। আর জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য সকলকে জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলকভাবে করতে হচ্ছে। এই সুযোগকে ইউনিয়ন আর পৌরসভার তথ্যসেবার কর্মকর্তারা ব্যবহার করছেন তাদের টাকার থলেকে বড় করার অসত্ উদ্দেশ্যে। আর সাধারণ মানুষ তাদের রক্ত আর ঘামে উপার্জিত টাকা দিচ্ছে তাদের পাতানো ফাঁদে। তথ্য সংশোধন করার জন্য তাদের কাছে গেলে বলা হয়, তা কোর্টে গিয়ে এফিডেভিট করার জন্য। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, তাহলে কীভাবে তারা নতুন করে জন্ম নিবন্ধন দিচ্ছে টাকার বিনিময়ে? তাতে করে কি সরকারের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকছে না? তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জনগণের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। আসলেই কি এটা জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানো? নাকি জনগণের দোরগোড়ায় ভোগান্তি? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়