প্রচণ্ড তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত
নওগাঁর মহাদেবপুরসহ জেলার ১১ উপজেলায় তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে খাবার স্যালাইন। রুক্ষ আবহাওয়ার কারণে বেড়েছে বিভিন্ন কোম্পানির উত্পাদিত ঠান্ডা কোমল পানীয়ের চাহিদা। ভ্যাপসা গরম ও প্রখর রোদে অসহনীয় তাপদাহে মানুষ ডায়রিয়াসহ ভাইরাস জ্বর ও পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ঐসব রোগের রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুন।
নওগাঁর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত নওগাঁ সদরসহ জেলার ১১ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া, ভাইরাস জ্বর ও পানিবাহিত অন্যান্য রোগে ৩১২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া জেলার ২৯৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রায় ২ হাজার ঐসব রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সা ও ওষুধ দেয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের ফার্মেসিগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোগীর চাহিদামত খাবার স্যালাইন তারা দিতে পারছেন না। ফার্মেসী মালিকদের অভিযোগ, খাবার স্যালাইনের চাহিদা বেড়েছে তাপদাহের কারণে কয়েকগুণ। কিন্তু চাহিদার তুলনায় খাবার স্যালাইন কোম্পানিগুলো থেকে কম সরবরাহ থাকায় সাময়িকভাবে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। চাহিদামত খাবার স্যালাইন সরবরাহ হলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে মালিকগণ জানান।
নওগাঁর সিভিল সার্জন আলাউদ্দিন আলী ডায়রিয়া ও ভাইরাস জ্বরসহ পানিবাহিত রোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ খুব একটা নেই। কোথাও দু-একটি ঘটনা ঘটলেও তাত্ক্ষণিক সর্বাত্মক চিকিত্সা সেবা দেয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারি হাসপাতাল-গুলোতে সকল প্রকার স্যালাইন ও ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।
