প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে টিকে থাকার মত দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে মানসম্মত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের একমাত্র উপায় হল শিক্ষা। আর আগামীতে দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা আরো গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৪ উদ্বোধনকালে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার পাঠ্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে উন্নীত এবং শিক্ষাকে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আইসিটি উন্নয়নের পন্থা এখন বিশ্বে মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা মেধাবী এবং সুযোগ পেলে তারা প্রমাণ করতে পারে।’ ‘একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ প্রতিপাদ্যে সারাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৪ পালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালক শাহ্জাহান মিয়া।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ একটি জাতি গঠন করতে চেয়েছিলেন। ‘বঙ্গবন্ধু ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিল্প মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে তাঁর উদ্যোগে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। বঙ্গবন্ধু কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন ও প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন। তিনি একটি সমৃদ্ধ জনশক্তি গঠনে মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, বৃত্তিমূলক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। ১৯৭৫ সালে তাঁর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর সকল লক্ষ্য ও উন্নয়ন কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দেশ ২১ বছরের জন্য গণতন্ত্র ও উন্নয়নবিহীন ঐতিহাসিক কালো অধ্যায়ে প্রবেশ করে।
শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর জনগণ পুনরায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায় এবং আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পরে ‘দেশবাসী বুঝতে পারে যে তাদর কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্যই সরকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার যথাসম্ভব উন্নয়ন ইস্যুগুলোতে সর্বদা বঙ্গবন্ধুর পথ অনুসরণ করছে। প্রতি খাতের মতো আওয়ামী লীগ সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থায়ই সংস্কার সাধন করেছে। তিনি বলেন, ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই সরকার প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এই কর্মসূচির আওতায় ১৯৯৬ সালে তাঁর সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে ১৮টি ইনস্টিটিউট নির্মাণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ২০২০ সাল নাগাদ মাধ্যমিক স্তরে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও আইসিটি শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এ লক্ষ্যে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পরে প্রধানমন্ত্রী বিআইসিসি চত্বরে বিভিন্ন সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন।
