আগাম জামিন নিয়ে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন শুনানি ১০ জুলাই

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৪, ২২:১৮
আগাম জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগের সাত দফা নির্দেশনা সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে পুন:বিবেচনার (রিভিউ পিটিশন) দুটি আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে সভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন আলাদাভাবে এ আবেদন দায়ের করেন। রিভিউ আবেদন দুটি গতকাল বুধবার আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে উত্থাপন করা হয়। চেম্বার আদালতের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১০ জুলাই শুনানির জন্য দিন ধার্য করে আবেদন দুটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। আবেদন দায়ের প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আগাম জামিনের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের নির্দেশনা থাকায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অপরদিকে হাজার হাজার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা হচ্ছে। মিথ্যা অভিযোগে দায়ের হওয়া এসব মামলায় হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা আসামি করা হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ গ্রেফতার বাণিজ্য চালাচ্ছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা এসব মামলায় নিম্নআদালত জামিন মঞ্জুর করছে না। এ অবস্থায় হাইকোর্ট ছিল বিচারপ্রার্থীদের শেষ আশ্রয়স্থল। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে আপিল বিভাগের রায়টি রিভিউয়ের আবেদন জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে গত মার্চ মাসে আগাম জামিন দেয় বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগ মোশাররফের জামিন বাতিল করে এক রায় দেয়। একইসঙ্গে আগাম জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে সাত দফা নির্দেশনা দেয়। রায়ে বলা হয়, আগাম জামিন মঞ্জুরের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের বিবেচনা খুবই বিস্তৃত। এটা অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত আইনি নীতির ভিত্তিতে বিচারিক বিচক্ষণতা বেষ্টিত হবে এবং স্বেচ্ছাচারী বিবেচনার উপর ভর করে হবে না। অবশ্যই এজাহারের খুঁটিনাটি বিষয়ে বিচারকের চিন্তায় এবং আদেশে তার প্রতিফলন থাকবে যেন তারা ঘটনাটি (ফ্যাক্ট) ও অভিযোগসমূহ সর্বতোভাবে বিচার বিশ্লেষণ করেছেন।