২০১৩ সালে এই ফোর্তেলেজার মাঠে কনফেডারেশন কাপে ব্রাজিল ২-০ গোলে মেক্সিকোকে হারিয়েছিল। সেই চেনা মাঠে বিশ্বকাপে ব্রাজিল বধের পরিকল্পনা তাই আগেই কষে রেখেছিলেন মেক্সিকোর কোচ মিগুয়েল হেরেরা। মেক্সিকানদের চাওয়া ছিল যে কোনো মূল্যে স্বাগতিক দেশকে আটকানো। তাহলে সেটা হবে ম্যাচ জয়েরই সমান।
বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল এবার নিয়ে চার বার মেক্সিকোর মুখোমুখি হলো। আগের তিন বারেই ব্রাজিল জয় পেয়েছে। তবে এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচে গোল শূন্য ড্র করলো মেক্সিকোর সাথে। ম্যাচ জিতলে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালটা নিশ্চত হতো। কিন্তু ড্রয়ের কারণে সেটা হয়নি। যদিও ব্রাজিলের কোচ লুইস ফিলিপ স্কলারি অসন্তুষ্ট নন ড্রয়ে। তিনি বলেছেন এই ড্র দলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।
ফোর্তেলেজার মাঠে তার্কিশ রেফারি কাকির কিউনেট বাঁশি দেয়ার সাথে ব্রাজিলীয়ানদের উল্লাসটা শুরু হয়ে যায়। খেলা গড়ায় আর ফোর্তেলেজায় নেইমারের ভক্তরা নিস্তেজ হতে শুরু করে। ব্রাজিল ভক্তরা চায় গোল। চায় জয়ের স্বাদ নিতে। কিন্তু নেইমাররা সেটা দিতে পারেননি। দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মেক্সিকোর গোলকিপার। একটা করে গোলের চেষ্টা ব্যর্থ হয় আর ব্রাজিল জুড়ে উউউফ, উউউফ বলে আফসোস করেন দর্শকরা। শুধুই কি নেইমার, তাকে যিনি বল গড়িয়ে দেন সেই ফ্রেড তো আরো ভুল করেছেন। তিনি হেড করেছেন বাইরে। না হলে ম্যাচের শুরুতেই গোলের দেখা পেত ব্রাজিল। নেইমার শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন। তার শট মেক্সিকান গোলকিপার গুয়েলেমোরের বুকে লেগে বেরিয়ে যায়। আরেকটি হেড হাত দিয়ে ফিরিয়েছেন। এমন কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হয়েছে বিশ্বকাপের ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। হাতাশায় বেরিয়ে গেছেন ফোর্তেলেজার দর্শক। যে আনন্দ নিয়ে মাঠে ঢুকেছেন সেই আনন্দ মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় ছিল না। ম্যাচের শেষ দিকে মেক্সিকো মরণ কামড় বসিয়েছিলো। সেটা যদি কাজে লেগে যেতো তাহলে ফোর্তেলেজার দর্শকরাই শুধু কাঁদতো না। পুরো ব্রাজিলেও কান্না ঝরতো। সেটা হয়নি।
মেক্সিকো-ব্রাজিল গোল শূন্য ড্র অনেক বেশি প্রাপ্তি খুঁজে পান মেক্সিকানরা। কারণ অতীত বলছে ব্রাজিল তাদের বড় বাধা। এই বড় দলের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের আসরে জয়ের রেকর্ড নেই। তাই ড্রটা তো কোনো অংশে কম না। ব্রাজিলের দর্শকরা যখন ম্যাচ নিয়ে বিশ্লেষণ করে ঘরে ফিরছিলেন। তখন মেক্সিকান দর্শকরা আনন্দ করছিলেন। আর সংবাদ সম্মেলনে ৬৫ বছর বয়সি কোচ স্কলারি ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘আপনারা যদি আমার মন্তব্য জানতে চান আমি বলব ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে আমরা যে খেলাটা খেলেছি তার চেয়েও মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ভালো খেলেছি।’ ব্রাজিলের ড্রয়ে সে দেশের সংবাদ কর্মীরা কোচকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন। জবাবে স্কলারি বলেন, আপনারা যদি ম্যাচ তুলনা করেন, দেখবেন ১০ ভাগ উন্নতি করেছিলাম আমরা। বুঝতে পারছি আরো উন্নতি করা প্রয়োজন। স্কলারি জানিয়েছেন, আমি যে খেলা দেখেছি তাতে ম্যাচ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।
মেক্সিকোকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসাবে মনে করছেন স্কলারি। ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড নেইমার, অসকার, ফ্রেড, রামিরেস, পলিনহোরা ছিলেন ব্যর্থ। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে নেইমারের কোনো কারিকুরি কাজে লাগেনি। ব্রাজিলের সেরা অস্ত্রটাকে বোতল বন্দী না করেও মেক্সিকো ড্র করলো। প্রথম ম্যাচে নেইমার দুই গোল পেয়েছিলেন। আর দ্বিতীয় ম্যাচে গোলই পেলেন না। কেন? স্কলারি বলেন, নেইমার একা জয় আনতে পারবে না। ম্যাচও হারাতে পারবে না। আপনাকে বুঝতে হবে নেইমার ম্যাচের একটা অংশ। মাঝে মাঝে সে খেলার মধ্যে পার্থক্যটা গড়ে দেয় মাত্র। যখন দল হারে তখন নেইমারও হারে। দল যখন জেতে তখন নেইমারও জেতে। স্কলারির শেষ কথা হচ্ছে, আমরা নিশ্চিত হতে চাই যে গ্রুপের শেষ ম্যাচটায় ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে ম্যাচটি আমরা জিতবো। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফেভারিট ব্রাজিলকে আটকে দিয়ে মেক্সিকান কোচ মিগুয়েল হেরেরার সাহসি কণ্ঠ। বললেন, আমরা প্রমাণ করেছি আমরা যে কোনো কিছু করতে পারি। মেক্সিকো ক্যামেরুনকে হারিয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়। ৬০ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে খেলে আমরা প্রমাণ করেছি বিশ্বকাপে আমরা অনেক কিছুই করতে পারি। সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকুন। মেক্সিকোর শেষ ম্যাচ ২৩ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে।
আজকের খেলা
কলাম্বিয়া-আইভরি কোস্ট রাত ১০:০০
উরুগুয়ে-ইংল্যান্ড রাত ১:০০
জাপান-গ্রীস রাত ৪:০০
