কাপ্তাইয়ে জামের খ্যাতি আছে সারা চট্টগ্রামে

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৪, ২২:২৬
কাপ্তাই এলাকার জামের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে গোটা চট্টগ্রামে। জাম বিক্রি করে ভাগ্য ফিরিয়েছেন এই এলাকার অনেকেই। এর একজন রবিধন তনচংগ্যা। তিনি উপজেলার মগবান ইউনিয়নের যৌথখামারের বাসিন্দা। তার ৮টি জাম গাছ। প্রতিটি গাছে বিপুল পরিমাণ জাম ধরেছে। বেপারিরা চট্টগ্রাম থেকে এসে তার জাম কিনে নেন বলে রবিধন জানান। গতকাল পর্যন্ত এক লাখ ১৩ হাজার টাকার জাম বিক্রি করেছেন বলে জানান। গাছে আরো প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার জাম রয়েছে। অমরসেন চাকমাও ইতিমধ্যে ৯৫ হাজার টাকার জাম বিক্রি করেছেন বলে জানান। তারও ৫টি গাছে এবার প্রচুর জাম ধরেছে। গাছে আরো প্রায় ৫০ হাজার টাকার জাম আছে বলে অমরসেন জানান। স্থানীয় সুপ্রকাশ তনচংগ্যাও জানালেন, ইতিমধ্যে প্রায় এক লাখ টাকার জাম বিক্রি করেছেন তিনি। তিনি বলেন, আমার বাপ-দাদারা যেসব জাম গাছ লাগিয়েছেন, সেগুলো থেকেই আমরা এখন ফল বিক্রি করে সংসারের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করছি। তাদের ৬টি জাম গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে জাম ধরেছে। বেশিরভাগ সময় চট্টগ্রাম শহর থেকে ব্যবসায়ীরা জাম কিনতে আসেন। আবার মাঝে মাঝে কাপ্তাই নতুন বাজারে গিয়েও তারা জাম বিক্রি করেন। রবিধন চাকমা বলেন, আমাদের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা ৫০ টাকা কেজি দরে জাম কিনে নিচ্ছে। তবে আমাদের জামগুলো টসটসে মিষ্টি এবং বড় আকারের। জামের বিচি অনেক ছোট এবং পুরোটাই শাঁসে ভরা। যে কারণে আমাদের জামের প্রতি ব্যবসায়ীদের আগ্রহও অনেক বেশি। এ ব্যাপারে কথা হয় ব্যবসায়ী সুনীল শীলের সাথে। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমরা কয়েকজন ব্যবসায়ী এই এলাকা থেকে জাম কিনে নিচ্ছি। চট্টগ্রাম শহরে কেজি একশ’ টাকা বলার সাথে সাথে ক্রেতারা জাম কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। একবার যিনি এই জাম খেয়েছেন তিনি আবারো জাম কেনার জন্য আসেন। ৩০ কেজি এই জামের সাথে ১০ কেজি অন্য এলাকার জাম মিশিয়ে বিক্রি করলেও ক্রেতা খুশি মনে জাম কিনে নেন। সুনীল শীল বলেন, জাম বেচে গৃহস্থ যেমন খুশি আবার আমরা যারা ব্যবসা করছি আমরাও খুশি। আবার যারা কিনে খাচ্ছেন তারাও ভালো জাম পেয়ে খুশি।