রমজানে পানি সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় চট্টগ্রাম ওয়াসা

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২২:০৭
চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি উত্পাদন বাড়াতে গৃহীত উদ্যোগেও কোনো সুফল মিলছে না। উত্পাদন বৃদ্ধির উদ্যোগের পেছনে মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং ও পাম্প হাউজের যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য পানির স্বাভাবিক উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় আসন্ন রমজান মাস নিয়ে শংকিত ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। তারপরও রমজান মাসে পানি উত্পাদন বৃদ্ধি ও বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ওয়াসা সূত্র জানায়, ৭৫টি পাম্প হাউজকে লোডশেডিং মুক্ত রাখতে ৫৫টিতে বিদ্যুতের এক্সপ্রেস লাইন ও ২০টিতে ডিজেল চালিত জেনারেটর বসানো হয়েছে। কিন্তু এসবের পরও পাম্প হাউজগুলো লোডশেডিং মুক্ত রাখা যাচ্ছে না। এক্সপ্রেস লাইনে ঘন ঘন লোডশেডিংকে পিডিবি বিদ্যুত্ বিভ্রাট বলে অভিহিত করছে। সংযোগ লাইনে ত্রুটিজনিত সমস্যায় বিদ্যুত্ সরবরাহ মাঝে মাঝে বন্ধ রাখতে হয়। অন্যদিকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় জেনারেটরগুলো বেশি সময় চালু রাখা যাচ্ছে না। ওয়াসা সূত্র জানায়, দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানির চাহিদার মধ্যে ওয়াসা সর্বোচ্চ ২১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করছে বলে দাবি করছে। কিন্তু লোডশেডিং ও পাম্প হাউজের উত্পাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দৈনিক ১৯ কোটি লিটারের বেশি সরবরাহ করতে পারছে না। সূত্র জানায়, ত্রুটিমুক্ত ও স্বাভাবিক উত্পাদনে সক্ষম একটি নলকূপ থেকে ঘণ্টায় ৩৫/৪০ হাজার লিটার পানি উত্পাদন করা যায়। কিন্তু নগরীর কালুরঘাট নিচু এলাকায় স্থাপিত নলকূপ থেকে ঘণ্টায় ২০/২৫ হাজার লিটার এবং আগ্রাবাদ ও হালিশহর উঁচু এলাকায় স্থাপিত নলকূপ থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ হাজার লিটারের বেশি পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় আশানুরূপ পানি মিলছে না। উঁচু এলাকায় পানি পেতে প্রায় ৩০০ ফুট গভীরে যেতে হচ্ছে। কিন্তু ওয়াসার পাম্পগুলোর গভীরতা অনেক কম। রমজানে পানি সরবরাহ বাড়াতে এবং বণ্টন ব্যবস্থা সুষ্ঠু করতে কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে কয়েকটি পাম্প হাউজ সংস্কার পাম্প অপারেটরদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার ও পানির সংকটপূর্ণ এলাকায় ভাউজারে করে পানি সরবরাহ করা। ওয়াসার অব্যাহত পানি সংকটে নগরীতে গত কয়েক বছর যাবত্ রেশনিং পদ্ধতিতে পানি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। সপ্তাহে একদিন পানি দেয়া হচ্ছে এমন অনেক এলাকা রয়েছে। আবার সপ্তাহে সর্বোচ্চ চারদিনের বেশি পানি পাচ্ছে না কোনো এলাকাবাসী। এ প্রসঙ্গে ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তপন দাশ ইত্তেফাককে বলেন, রমজান নিয়ে গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত প্রায় দেড় কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে।’ ওয়াসা জানায়, নগরীর উঁচু এলাকা বিশেষ করে হালিশহর, আগ্রাবাদ, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিংয়ে সারা বছর পানি সংকট প্রকট থাকে।