ফুটবলে মেতেছে তারুণ্য

আপডেট : ২০ জুন ২০১৪, ১৯:৩৩
বিশ্বকাপটা সাম্বার দেশ ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হলেও এ উন্মাদনা স্পর্শ করেছে আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের। আর তাই সেই উন্মাদনা পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। জার্সি কিংবা পতাকা জড়িয়ে প্রিয় দলের প্রকাশ্য সমর্থনে সকলেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। খাওয়ার টেবিল থেকে ক্যাম্পাসের আড্ডা সবই আক্রান্ত বিশ্বকাপ জ্বরে। সেই জ্বরই প্রত্যক্ষ্য করতে এবার হাজির হয়েছিলাম কয়েকজন তারুণ্যের কাছে তারা জানিয়েছেন বিশ্বকাপ নিয়ে তাদের নানান ভাবনার কথা। তাই নিয়ে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন সোহেল মামুন মুড়ি-চানাচুর বানিয়ে রাত জেগে প্রিয় দলের খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। খেলা শুরুর আগে টিভি ঠিকঠাক আছে কি-না, ফেবারিট দলের সাপোর্টারদের এক করে বিশ্বকাপের খেলা দেখা, আর প্রিয় দলের খেলার দিন তো স্পেশাল খাবার আয়োজন থাকছেই। সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা যে শুধু যে দলগুলো খেলছে সেসব দেশেই তা নয়, সারা বিশ্বের সঙ্গে আমাদের তারুণ্যের মাঝে লেগেছে বিশ্বকাপ হাওয়া। তেমনই প্রতিচ্ছবি দেখা যায় কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে। আর এ নিয়ে ক্যাম্পাসগুলো সেজেছে নতুন রূপে। আর এ সাজের প্রধান অনুষঙ্গ-প্রিয় দলের পতাকা। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে প্রধান ফটক, হলের ফটক এমনকি নিজের কক্ষেও শোভা পাচ্ছে প্রিয় দলের পতাকা আর প্রিয় খেলোয়াড়ের পোস্টার। কে কার চেয়ে বড় পতাকা লাগাবে তাই নিয়েও চলছে প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতার কারণে প্রতিদিনই আকার ছোট হওয়ার কারণে অনেক পতাকা খুলে ফেলা হচ্ছে। লাগানো হচ্ছে প্রতিপক্ষের চেয়ে বড়টা। প্রতিপক্ষও একইভাবে পরের দিন লাগাচ্ছে আরও বড় পতাকা। শুধু কি তাই? প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে অনেকেই পড়ছেন প্রিয় দলের জার্সিও। আর বরাবরের মতো শিবির মূলত দুটি ভাগে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল। এ ছাড়াও আছে ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানির কিছু সমর্থক। তবে তারা সংখ্যায় খুবই কম। বিশ্বকাপকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে চলছে তুমুল আড্ডা। আর এ আড্ডায় কখনো কখনো উত্তেজনাও টের পাওয়া যায়। ক্যাম্পাসজুড়ে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের সমর্থকই বেশি। অন্য দলেরও আছে তবে অনেকটাই কম। ‘মেসি একাই যথেষ্ট। আর মেসি তো এবার বলেই দিয়েছে যে, সে এবার বার্সেলোনার মেসি হয়েই মাঠে নামবে। সঙ্গে আছে অ্যাগুয়েরো আর হিগুয়াইনের মতো স্ট্রাইকার। আর কী লাগে! বিশ্বকাপ তো আর্জেন্টিনা পেয়েই গেছে। এখন আনুষ্ঠানিকতা করতেই খেলাগুলো খেলতে হবে।’ এমনই জানালেন আর্জেন্টিনা সমর্থক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাকিবুল হাসান। তার কথার জের টেনে রাজিব বলল, ‘আমাদের নেইমার একাই এক শ। যদি নেইমার একবার দৌড়ায় তো এগারো জন মিলেও তাকে আর ধরা যাবে না।’ ‘দলটি এবার বেশ গোছানো আর এবার খেলাই দেখা মিস করব না, যদিও ক্লাস থাকবে। তারপরও রাত জেগে খেলা দেখব।’ কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাদ। পাশে বসা শুভ সাপোর্ট করে আর্জেন্টিনার। তিনি বলল, ‘এবার মেসি দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। আমার বিশ্বাস, এবার আর্জেন্টিনাই বিশ্বকাপটা জিতবে।’ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথের মাঝে মিমকে পাওয়া গেল একটু অন্যরকম। মিম সাপোর্ট করে ইতালির। ‘ইতালি বেশ ঐতিহ্যবাহী একটি গোছালো দল। এবার ফেবারিট না হলেও ভালো করার ক্ষমতা রাখে তারা। ক্লাস ও পরীক্ষার কারণে সব খেলা দেখতে পারব না। তবে ইতালির খেলা মিস হবে না।’ বলছিলেন মিম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহসান বলেন, ‘ব্রাজিলের জার্সি কিনেছি দুটি। আমার প্রিয় নম্বর ১০। তাই জার্সি নম্বর ১০ দেখেই কিনলাম।’ জিয়া কিনেছেন আর্জেন্টিনার জার্সি। তার আবার পছন্দের জার্সি নম্বর ৯। ক্লাস আর পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীরা বেশ ব্যস্ত সময় পার করলেও ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা টিভি পর্দায় দেখা কেউ মিস করবেন না বলে জানান দিল সবাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী মিথিলা বলেন, ‘রাত জেগে খেলা দেখার মজাই আলাদা। তার ওপর আবার সব বন্ধু মিলে।’ আর্জেন্টিনার পাঁড় সমর্থক শিক্ষার্থী সৈকত বাজি ধরেছেন একই ছাত্রাবাসে অবস্থান করা ব্রাজিল-সমর্থক বন্ধু রেজাউলের সঙ্গে। তবে সেই বাজি টাকার না। শুধু চ্যাম্পিয়ন হলেই এক বেলা দামি হোটেলে খাওয়ানো। আবার সানজিদা জিনিয়া তার কক্ষের জানালায় সাঁটিয়েছেন প্রিয় দল আর্জেন্টিনার পতাকা। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ব্রাজিলের হেক্সা মিশন ব্যর্থ করে দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ জিতবে মেসির দেশ আর্জেন্টিনা।’ তবে পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে পাওয়া সমর্থন হূদয়ে গেঁথে একই ছাত্রীনিবাসের আরেক শিক্ষার্থী লিজা বলেন, ‘ব্রাজিলের নেইমারের হাতেই বেশি মানায় চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটা।’ তবে সবার অপেক্ষা এখন ১৩ জুলাইয়ের, যেদিন নিশ্চিত হবে আগামী চার বছরের জন্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান কারা। সবারই প্রত্যাশা, প্রিয় দলের হাতেই শোভা পাক সোনায় মোড়ানো ট্রফিটা।