আলীম ফাউন্ডেশন কর্তৃক ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে মাত্র ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে শুরু করা ঈস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে এখন ঠাঁই নেই অবস্থা। এত অল্প সময়ে এটি সম্ভব হয়েছে সেরা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে উপযুক্ত পরিবেশ আর সুযোগ-সুবিধায় হাতে কলমের যুগপত্ শিক্ষা নিশ্চিত করার কারণে। বলতে গেলে শুরু থেকেই তারা স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য তুরাগ থানার অন্তর্গত ধৌর মৌজায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার নীতিমালা অনুযায়ী নির্দেশিত আড়াই একরের স্থলে ০৫ একর জমি ক্রয় করে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নির্মাণ করে ৬ তলাবিশিষ্ট কলেজ ও ৫ তলা হাসপাতাল ভবন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে এরই মধ্যে ৫টি ব্যাচ ডাক্তার হয়ে বেরিয়েছে এবং অধ্যয়নরত আছেন, আরও ৫৮২ জন ভবিষ্যত্ ডাক্তার। এদের রয়েছে প্রচুর বিদেশি শিক্ষার্থী। যার বেশির ভাগই এসেছে নেপাল, কাশ্মির, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, কাতার ও পর্তুগাল থেকে। এদের তুরাগ তীরবর্তী সবুজবেষ্টিত ক্যাম্পাসটি যেমনি দৃষ্টিনন্দন তেমনি নিরিবিলি। ৬ তলাবিশিষ্ট বিশাল একাডেমিক ভবনের সাথেই গড়ে তোলা হয়েছে ৬৫০ শয্যাবিশিষ্ট ৫ তলা হাসপাতাল ভবন। একাডেমিক ভবনের ২য় তলায় অসংখ্য বই, জার্নাল এবং ইন্টারনেট সম্বলিত সুবিশাল লাইব্রেরি রয়েছে। শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার করা হয় অত্যাধুনিক প্রজেক্টর ও মাল্টিমিডিয়ার মতো আধুনিক সব শিক্ষা উপকরণ। ডিসসেকশন রুমে একসাথে ১২০ জন ছাত্র-ছাত্রী নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবহারিক ক্লাস করতে পারে এবং আছে বৃহত্ পরিসরের ৬টি ল্যাব, যেখানে একসঙ্গে অন্তত ৩৫ জন শিক্ষার্থী কাজ করতে পারে। হাসপাতালের ঠিক পিছনেই ৬ তলাবিশিষ্ট আধুনিক পৃথক গার্লস ও মেইল হোস্টেল এবং ফরেইন স্টুডেন্টদের আন্তর্জাতিক মানের হোস্টেল। হসপিটালের পশ্চিম পাশে নিজস্ব পেট্রল পাম্প ও পরিবহন পুল। যার অধীনে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা ছুটছে অ্যাম্বুলেন্স এবং ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবহন। অন্য অনেক প্রাইভেট মেডিকেলে যেখানে ডেডবডির স্থলে ডামি ইউজ হয়, নেই প্র্যাকটিসের জন্য নিজস্ব হসপিটাল (অন্য হসপিটালে প্র্যাকটিস করতে হয়) এবং ১০-১৫ জন ১টি মাইক্রোস্কোপ পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করে, সেখানে এই হসপিটালে রয়েছে ৫-৬টি ডেডবডি এবং প্রতি ৩-৪ জনের জন্য একটি মাইক্রোস্কোপ। এখানে ৫৮২ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন ১৩৫ জন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী মেডিকেল শিক্ষার প্রতিটি বিষয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী অর্থাত্ অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং রেজিস্ট্রার। উল্লেখ্য যে, পাশাপাশি ক্যাম্পাসে চিকিত্সাসংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কারণে চিকিত্সা শিক্ষার নীতি নির্ধারক তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিজিটে এসে ঈস্ট ওয়েস্টসহ অন্যান্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠানকে আদর্শ মেডিকেল প্রফেশনালস্ তৈরির বহুমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মন্তব্য ও প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য যে, বিশিষ্ট সার্জন ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন দেশে দক্ষ চিকিত্সক তৈরির লক্ষ্যে একই ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠা করেন ঈস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ, আপডেট ডেন্টাল কলেজ ও ঈস্ট ওয়েস্ট নার্সিং ইনস্টিটিউট। ঈস্ট ওয়েস্টসহ অন্যান্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের দায়িত্বে আছেন মিসেস উলফাত জাহান মুন ও মো. মোস্তাক হোসেন।
