চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

আপডেট : ২০ জুন ২০১৪, ২২:২৪
চট্টগ্রামে পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ী রোকনুজ্জামানের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও এসআই পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। পাঁচলাইশ থানার ওসি আবু জাফর মো. ওমর ফারুক গতকাল শুক্রবার ইত্তেফাককে বলেন, রোকনুজ্জামান ২০১২ ও ২০১৩ সালে দায়ের করা দু’টি মামলায় আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। এ হিসেবেই তাকে গ্রেফতার করতে বুধবার রাতে পুলিশ তার বাসায় যায়। অন্যদিকে রোকনুজ্জামানের বাসায় যাওয়ার কারণ সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন পাঁচলাইশ থানার এসআই মো. আমীর হোসেন। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, গত ৫ জুন মাজেদা বেগম নামে এক নারী পাঁচলাইশ থানায় রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। এ মামলায় গ্রেফতারের জন্য বুধবার রাতে তার বাসায় যাই। রোকনুজ্জামান যে অতীতের দু’টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এ বিষয়ে এসআই আমীর হোসেন তখন কোনো বক্তব্য দেননি। এসআইয়ের বক্তব্যের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওসি বলেন, মূলত দু’টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবেই রোকনুজ্জামানকে গ্রেফতার করতে পুলিশ তার বাসায় যায়। থানায় আনার পর তাকে ধর্ষণ মামলা সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। এ বিষয়ে মৃত রোকনুজ্জামানের স্ত্রী শিমু আক্তার বলেন, তার স্বামীর আগের স্ত্রী পারভীন আক্তারের সাথে দুই বছর আগে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। পারভীন আক্তার তার স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেন। এ মামলায় রোকনুজ্জামান কিছুদিন জেলে ছিলেন। তবে আপস হয়ে যাওয়ায় পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। আগের স্ত্রীর ওই মামলাটি ছাড়া রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে আর কোনো মামলার খবর তার জানা নেই। তার স্বামীর হত্যাকারীদের আড়াল করার জন্য এখন তার স্বামীর বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা সাজাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গত বুধবার চট্টগ্রামে পুলিশ হেফাজতে রোকনুজ্জামান নামে এক আবাসন ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, রোকনুজ্জামানকে গ্রেফতার করতে গেলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চমেক হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে চমেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক জানান, রোকনুজ্জামানকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। পাঁচলাইশের ওসি ওমর ফারুক বলেন, হার্ট অ্যাটাকে রোকনুজ্জামানের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ঘটনা তদন্ত করা হবে।