গল্প নয় সত্যি

অপারেশন কক্ষে গান!

আপডেট : ২১ জুন ২০১৪, ২০:২৬
অপারেশন, তা সে যত ছোট কিংবা বড়ই হোক না কেন সেটি নিয়ে রোগীর মনে কিছুটা টেনশন থাকবেই। তবে এমনতর কোনো অপারেশনে যদি রোগীকে বলা হয়, অপারেশন চলাকালীন পুরো সময়টিতেই একটু পর পর গান গাইতে তাহলে তাতে অবাক হতে হয় বৈকি। তবে অপারেশনের রোগী যখন দেশের নামকরা একজন গায়িকা আর অপারেশনের স্থানটি যখন তার গলার একটি স্পর্শকাতর অংশ তখন রোগীর কাছে এমন আবদার না করে পারেননি ডাক্তাররা। কারণ গলার টিউমার অপসারণ করতে যেয়ে আলামা কান্টে নামের এই গিনিয়ান গায়িকার ভোকাল কর্ডের ক্ষতি কোনোভাবেই হতে দিতে চাইছিলেন না ডাক্তারেরা। বর্তমানে প্যারিসে বসবাস করা এই গায়িকার অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক গিলস ধনেউর। তিনি বেশ ভালোভাবেই জানতেন যে, অপারেশনের সময় তার সামান্যতম ভুলও আলামার গানের গলাটিকে চিরতরে বিনষ্ট করে দিতে পারে। আর তাই গোটা দুনিয়ায় কেউ যেটা কখনো করেনি তেমনই এক অভিনব পন্থায় রোগীকে গান গাইতে বলে গানের সাথে সাথে অপারেশন শেষ করেন গিলস। অন্যদিকে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় রোগী যাতে অপারেশনের কষ্টটুকু সহ্য করতে পারেন সেজন্য তাকে লোকাল এনস্থেশিয়া ও সম্মোহন বিদ্যার সহায়তা নিয়ে অন্যমনস্ক রাখা হয়। আলামার নার্ভাসনেস কাটাতে তাকে একজন সম্মোহনবিদন এমনভাবে সম্মোাহন করেছিলেন যে আলামার মনে হচ্ছিল তিনি বোধ হয় আফ্রিকার সেনেগালে বসে গান করছেন। আর এই ফাঁকে ডাক্তার গিলস ও তার দল যখন টিউমারটি অপারেশন করছিলেন তখন তারা গানের প্রতি লক্ষ্য রেখেই সংবেদনশীল এই কাজটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নিজের উদ্ভাবিত এই প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অধ্যাপক গিলস বলেন, সম্পূর্ণ অপারেশন শেষে আমরা যদি আবিষ্কার করতাম যে আলামা আর গাইতে পারছেন না তাহলে সেটা হতো ভীষণ দুঃখজনক। কিন্তু আলামার গান শুনতে শুনতে আমরা যখন অপারেশন করি তখন আমরা এটা নিশ্চিত ছিলাম যে আমাদের ছুরি-কাঁচির কাঁটাছেড়া তার গানের গলার ক্ষতি করছে না এবং এমন কিছু হলে তা সাথে সাথেই গান থামিয়ে দিত।