আলো ছড়াচ্ছে ঠাকুরগাঁও সরকারি গ্রন্থাগার

আপডেট : ২১ জুন ২০১৪, ২১:৫১
নানা সমস্যার মধ্যেও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে চলেছে ঠাকুরগাঁও সরকারি গ্রন্থাগারটি। প্রতিদিনি বিভিন্ন বয়সের পাঠকরা ভিড় করলেও এই জ্ঞান রাজ্য থেকে স্কুলগামী শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ স্কুল শুরু হয় ১০টায় আর ছুটি হয় ৪টায়। ফলে গ্রন্থাগারে আসতে না আসতেই বন্ধ হয়ে যায় সেটি। এমন অভিযোগ করেছেন স্কুলগামী অনেক শিক্ষার্থী। গ্রন্থাগার সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যায় ৬টা পর্যন্ত গ্রন্থাগার খোলা থাকে। ঠাকুরগাঁও সরকারি গ্রন্থাগারটিতে প্রায় ১৯ হাজার বই রয়েছে। এখানে প্রতিদিন ১০টি জাতীয় পত্রিকা নেয়া হয়। এখানে রয়েছে বিখ্যাত উপন্যাস, দর্শন, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনী, বিজ্ঞান, বাংলা ও ইংরেজী সাহিত্যের নানা ধরনের বই। হরেক রকম বইয়ের পাশাপাশি আছে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইসহ গাইড ও জার্নাল। এতকিছুর পরও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে পাঠকের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না এই সরকারি গ্রন্থাগারটি। পাঠকদের অভিযোগ, গ্রন্থাগারটি পুরোনো বই দিয়ে ভর্তি। এখানে মাত্র ১০টি পত্রিকা নেয়া হয়। একজন একটি পত্রিকা পড়লে অন্যজনকে বসে থাকতে হয়। গ্রন্থাগারটি সকাল ১০ থেকে ৫টা পর্যন্ত বই পাড়ার সুযোগ থাকলেও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা এখান থেকে তেমন কোন সুযোগ পাচ্ছে না। স্কুল ছুটি হয় ৪টায়। গ্রন্থাগারে যেতে না যেতেই বন্ধ হয়ে যায়। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাব্বির আহম্মেদ জানায়, তার বিভিন্ন বিজ্ঞান বিষয়ে বই পড়ার খুব ইচ্ছে। কিন্তু স্কুল ছুটির পড় গন্থাগারে আসলেই এটি বন্ধ হয়ে যায়। এই গ্রন্থাগারের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। পাঠক সাজু ইসলাম বলেন, নিয়মিত গ্রন্থাগারে আসি পত্রিকা পড়ার জন্য। কিন্তু পত্রিকার সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক সময় বসে থাকতে হয়। এখানে পত্রিকা ও নতুন বইয়ের সংখ্যা বাড়ালে পাঠকরা সুবিধা ভোগ করতে পারবে। ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অর্নাস ইংরেজী বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী নূর-ই-আলম জানান, এখানে ইংরেজী বইয়ের সংখ্যা খুবই কম। মাঝে মধ্যে বই পড়ার জন্য আসলেও না পেয়ে ফেরত যেতে হয়। মাহাবুবুর রহমান নামে এক পাঠক বলেন, পাঠাগার পুরোনো বই দিয়ে ভর্তি। পুরোনো বইয়ের কোন নতুন সংস্করণ নেই। এখানে নতুন বইয়ের সংখ্যা বাড়লে নিয়মিত পাঠক সংখ্যা বাড়বে। এই সরকারি গ্রন্থাগারটি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। এখানকার টয়লেট ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। গ্রন্থাগারটিতে দিন দিন পাঠক সংখ্যা রাড়লেও বাড়েনি জনবল। ২ জন দিয়েই চলছে এই গ্রন্থাগারটি। পাঠকের ভিড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে এদেরকে। বর্তমানে ৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সরকারি গন্থাগারের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান আম্বিয়া বেগম বলেন, বইয়ের সংখ্যা বাড়লেও অনেক সময় পাঠকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।