কর্ণফুলীতে বেপরোয়া বালু উত্তোলন

আপডেট : ২১ জুন ২০১৪, ২১:৫১
রাঙ্গুনিয়ায় ভয়াবহ ভাঙ্গন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোত্সব। নদীপাড়ের বিভিন্ন স্থানে বসেছে জমজমাট বালুর হাট। কোদালা, শিলক, চন্দ্রঘোনা, সরফভাটা এবং গোডাউন এলাকায় বালুর হাটে বিকিকিনি চলছে অবাধে। ড্রেজার স্থাপনে কর্ণফুলীর তলদেশ খনন করে ব্যাপকহারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পূর্বকোদালা থেকে সরফভাটা পর্যন্ত রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে একাধিক সিন্ডিকেটের নদীর তলদেশ কেটে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চলছে অবাধে। উত্তর পাড়েও নদীর বিভিন্ন স্থানে খননযন্ত্র স্থাপন করে এবং ড্রেজার মেশিনযুক্ত ট্রলারে অবাধে তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রমে চলছে। সিন্ডিকেটগুলো প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার বালু পাচার করছে বিভিন্ন এলাকায়। বেপরোয়া এবং অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্পের স্থাপিত স্টোন ব্লক ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ব্লক ধসে এখানে দেখা দিয়েছে নতুন করে ভাঙ্গন। নদীপাড়ের প্রায় সহস্র বসতবাড়ি ভাঙ্গনের মুখে। কর্ণফুলী নদীতে ব্যাপক ও ক্ষতিকর বালু উত্তোলন কার্যক্রম চললেও প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকা পালন করছে। নদীর বালু উত্তোলন এবং পাচার কাজে অনেক ক্ষেত্রে থানা প্রশাসনের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অবৈধ এবং অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে চন্দ্রঘোনা পূর্ব হিন্দুপাড়া ও কদমতলী গ্রামের হিন্দুপাড়া এলাকায় মারাত্মক নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পূর্ব হিন্দুপাড়া গ্রামের পরিমল জানান, নদীর ভাঙ্গনের মুখে গ্রামের সামাজিক শ্মশান, বহু আবাদী জমি এবং জেসি দাশ প্রাইমারি স্কুলের মাঠে ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া এখানে বালির মজুদ এবং পরিবহনে ভারী যান চলাচলে গ্রামীণ রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কদমতলী গ্রামে বেশ কয়েকজনের সিন্ডিকেট সিপাহী বাড়ির নিকটে কর্ণফুলী খনন করে বালু উত্তোলন করছেন। এতে বিস্তীর্ণ এলাকায় তীরের নিকটে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। কদমতলী গ্রামে কর্ণফুলীর খেয়াঘাট সড়কসহ সিপাহীপাড়ার প্রায় দুইশ’ পরিবারের বসতভিটা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। এলাকাবাসী বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। নদী তীরবাসীরা জানান, সরকার দলীয় নেতাকর্মীর প্রভাব বিস্তারে একাধিক সিন্ডিকেট বালু উত্তোলন করে পাচার করছে। বালু উত্তোলনজনিত কারণে কর্ণফুলীর ভাঙ্গন ক্রমে তীব্র হচ্ছে। উদ্বাস্তু হয়ে পড়ছে নদীপাড়ের মানুষ। সরফভাটা ইউনিয়নের ভূমিরখীল গ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্পে স্থাপিত ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখানে দেখা দিয়েছে নতুন করে ভাঙ্গনের দুর্যোগ। এবছর বর্ষায় কর্ণফুলী নদীতে ভয়াবহ ভাঙ্গনে চরম দুর্ভোগের পদধ্বনি শুনছে রাঙ্গুনিয়ার কর্ণফুলী তীরের মানুষ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহ বলেন, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ করার জন্য অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ করা খুবই জরুরি। এলাকার মানুষের দাবির প্রতি সুপারিশ করে কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করেছি। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।