নারী উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে বাজেটে বরাদ্দ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আলোচনা সভায় বক্তারা। তারা মনে করেন ৪০টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার বাজেট, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একশ কোটি টাকার থোক বরাদ্দসহ যে সকল দিক নারীর কল্যাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে তার সুফল নারীরা ভোগ করতে পারবেন না যদি গুণগত দিকে গুরুত্ব দেয়া না হয়। শুধু টাকার অংক বাড়িয়ে অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন। তারা মনে করেন বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে তার সঠিক মনিটরিং দরকার। গতকাল সিরডাপ মিলনায়তনে ঘোষিত জাতীয় বাজেটে (২০১৪-১৫) প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বৈষম্য দূরীকরণের উদ্যোগ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ। প্যানেল আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হাসিনা নেওয়াজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে বিদেশের অনেক প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার হার অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। ২০১০ হাউসহোল্ড এক্সপেনডিচার রিপোর্ট-এ বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমা হ্রাসের কারণ হিসেবে দুইটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়। একটি হলো গ্রামাঞ্চলে মজুরি বৃদ্ধি এবং পরিবারগুলোতে নারীদের নির্ভরতার হার কমা।
বর্তমানে দেখা যায় গ্রামাঞ্চলে মেয়েরা বাইসাইকেল চালিয়ে ঘুরছে, ঋণ নিচ্ছে, ব্যবসা করছে— এটা বাংলাদেশের নারী বিপ্লবের একটি চিত্র। কিন্তু আমরা পিছিয়ে আছি। কারণ বর্তমান বাংলাদেশে গ্যাস, বিদ্যুত্, সুশাসন, শিক্ষিত শ্রমিক এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব। এই পাঁচটি সমস্যা যতদিন না পর্যন্ত আমরা সমাধান করতো পারবো ততদিন পর্যন্ত আমাদের কোন উন্নয়ন হবে না।
আয়শা খানম বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে সমগ্র জাতীয় কল্যাণ না হলে বিচ্ছিন্নভাবে একটি গোষ্ঠীর উন্নয়ন হবে না। সমগ্র বাজেটের প্রেক্ষিতে আমরা আজ জেন্ডার বাজেট নিয়ে নারীর স্বার্থে এবং নারীর জন্য বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা করছি। কিন্তু দেখা যায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাদের বরাদ্দের বিষয়ে বাজেটে কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী বলেন, বাংলাদেশে চোরাই অর্থনীতির বিপুল সমপ্রসারণ হয়েছে গত এক দশকে। যারা এই বিপুল সম্পত্তির মালিক, তারা এখনও কর কাঠামোর বাইরে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গঠন করতে চাই এবং যদি টেকসই উন্নয়নের কথা বলি তবে বাজেটে তার প্রতিফলন অবশ্যই থাকতে হবে।
