ইরাকের আরো একটি শহর দখল করেছে সুন্নি বিদ্রোহীদের সংগঠন ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য স্যাম (আইসিস)। গতকাল রবিবার পশ্চিমাঞ্চলের আল- আনবার প্রদেশের রুতবা শহরটি দখলের দাবি করেন তারা। একের পর এক শহর দখল করে তারা বাগদাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। খবর বিবিসির।
সুন্নি অধ্যুষিত প্রদেশ আনবারের এই রুতবা এবং আশপাশের কয়েকটি শহর থেকে আইসিস যোদ্ধাদের ভয়ে ইরাকি পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। আইসিএস’র একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের আনবার প্রদেশের সবগুলো শহর দখলের চিন্তা রয়েছে। মাত্র দু’ সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সুন্নি বিদ্রোহীরা দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছে। বাগদাদের উত্তরে এখনো যুদ্ধ চলছে, আর তার পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় ইরাকের সবচেয়ে বড় প্রদেশ এবং প্রায় সম্পূর্ণ সুন্নি অধ্যুষিত আনবারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জায়গা দখল করে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। এর মধ্যে আছে আল কাইম এবং রুতবা শহর। এই প্রদেশটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর সাথে সীমান্ত আছে সিরিয়া, জর্ডান এবং সৌদি আরবের। শহরটি জর্ডান সীমান্ত থেকে ৯০ মাইল দূরে। শহরটি বাগদাদ এবং জর্ডানের মূল সড়কের মাঝে অবস্থিত।
এদিকে ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি ইরাকে মার্কিন হামলার বিরোধিতা করেছেন। সমপ্রতি মার্কিন প্রশাসন ইঙ্গিত দেয়, ইরাকে হামলার আগে তারা নতুন একটি সরকারের প্রত্যাশা করছেন যে সরকারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নূরি আল মালিকি থাকবেন না। কিন্তু এরকম মার্কিন পরিকল্পনারও বিরোধিতা করেন খামেনি। খামেনির এমন মন্তব্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান মিলে যৌথভাবে ইরাকে অভিযানে পরিকল্পনার যে খবর সমপ্রতি পাওয়া গেছিল তা হয়তো আর সম্ভব হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ সুন্নি প্রধান দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেছেন, এরা ইরাকের জিহাদিদের মদদ দিচ্ছে। ইরানি প্রেসিডেন্ট পরোক্ষভাবে সৌদি আরব এবং কাতারের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেন। ইরাক সরকার জানিয়েছে, তারা বিদ্রোহীদের হটিয়ে দিয়ে কাইম শহরটি পুনরায় দখলে নিতে সক্ষম হয়েছেন। বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন সৈন্য নিহত হয় বলেও জানা যায়।
