কৃষি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে চাই সরকারি আরো নিয়োগ

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৪, ২১:১৫
কৃষি বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সর্বস্তরে শিক্ষার মান বাড়াতে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন ও জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলায় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ভিশন ২০৩০: ফ্রেমওয়ার্ক ফর ইকোনোমিক পলিসি মেকিং অ্যান্ড স্ট্রাটেজি ফরমুলেশন ইন এ প্লুরালিস্টিক ডেমক্রেসি’ স্লোগানে দুইদিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী দিনে এসব কথা বলেন বক্তারা। সম্মেলনে ‘টেকসই খাদ্য নিরাপত্তায় অর্জন ও ঝুঁকি’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব হোসেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন পদ্ধতি এবং নীতি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং ‘২০৩০ এর মধ্যে বৈশ্বিক মানে পৌঁছতে পারবে বাংলাদেশের শিক্ষার মান?’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন পল্লী উন্নয়ন কর্মসংস্থানের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান ও ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম, রাশেদা কে চৌধুরী এবং পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এছাড়া যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অধ্যাপক মাইকেল লিপটন, অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান, ড. মুস্তাফা কামাল মুজেরি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন আলমগীর, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দীন, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আবদুস সাত্তার মন্ডল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইকোনোমিস্ট ফোরাম (বিইএফ), বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ও বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, কৃষি খাতে নানামুখী প্রতিবন্ধকতাকে মোকাবেলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে পীড়ন সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনে গবেষণা, সহজমূল্যে উপকরণ ক্রয়ে ভর্তুকি সহায়তা ও কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সারের ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন সারের মধ্যে দামের পার্থক্য যৌক্তিকিকরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জেনেটিক্যালি মডিফাইড (জিএম) শস্যের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জিএম ফুডের প্রচলন শুরু হয়েছে। দেশেও বিটি বেগুনের মাধ্যমে তা প্রবর্তন করা হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া মোকাবেলা করেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্ব তাদের উত্পাদিত অতিরিক্ত খাদ্য দিয়ে জ্বালানি তৈরি করে। তাই তারা খাদ্য দিয়ে সাহায্য করে না। এ দেশগুলো টাকা দিয়ে সাহায্য করলেও কোনো খাদ্য দিয়ে সাহায্য করবে না। ড. মাহবুব হোসেন বলেন, গত এক দশকের ব্যবধানে জনপ্রতি চালের ভোগ কমছে। তাই খাদ্য নিরাপত্তাকে টিকিয়ে রাখতে বিকল্প ফসল উত্পাদনে জোর দিতে হবে। চালের পাশাপাশি তেল, ডাল, সবজি, ফলমূল উত্পাদনে নজর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলায় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ড. শামসুল আলম বলেন, দেশের কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে কৃষি গবেষণায় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। তাছাড়া কৃষককে তার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের ভর্তুকি এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিগুলোকে সমপ্রসারণ করতে হবে। এছাড়া কৃষি উপকরণের বাজারে কোথাও ব্যর্থতা দেখা দিলে তা কঠোর হাতে সরকারকে তা দমনে এগিয়ে আসতে হবে। তবে গবেষণার মাধ্যমে যেসব জাত এবং প্রযুক্তি উদ্বাবন হচ্ছে তা দ্রুত সমপ্রসারণ করা জরুরী। ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক প্রকার নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তদারকি দুর্বলতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওর নামে প্রতারণা হচ্ছে। তাছাড়া বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ যৌক্তিকভাবে দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু মানবসম্পদের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খাতে সরাসরি সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, দেশের প্রাথমিকে শিক্ষায় ভর্তির হার এখন সন্তোষজনক। কিন্তু একটা পর্যায় পর্যন্ত মেয়েরা শিক্ষা ধরে রাখতে পারলেও উচ্চ শিক্ষায় তারা পিছিয়ে পড়ছে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিপূর্ণভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারিভাবে পরিকল্পিত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।