ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে পদত্যাগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রহমতুল্লাহ। গত ১৯ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একান্ত সচিব সেলিম খানের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগের কথা স্বীকার করে প্রকৌশলী রহমতুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, ব্যক্তিগত কারণে আমি পদত্যাগ করেছি। তবে পদত্যাগ প্রসঙ্গে এর বেশি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
সূত্র মতে, ওয়াসায় যোগদানের পর থেকে সংস্থাটির এমডি তাকসিম এ খানের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিলো প্রকৌশলী রহমতুল্লাহর। ওয়াসায় নিয়োগ-বাণিজ্য, দুর্নীতি, এমডির একচ্ছত্র আধিপত্য ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মনোমালিন্য ক্রমেই বাড়ছিলো।
ওয়াসা সূত্র জানায়, গত চার মাস যাবত্ ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বিধি বহির্ভূত ভাবে চেয়ারম্যানের মাসিক সম্মানী ভাতা বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে তিনি চেয়ারম্যানের ব্যবহূত গাড়িটি সরবরাহ বন্ধ করে দেন। ওয়াসা ভবনে আসলে চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করার হুমকিও দেন। গত চার মাস যাবত্ কোন মিটিংও করতে দিচ্ছে না এমডি। ফলে ওয়াসার বার্ষিক বাজেট, নানা ফাইল অনুমোদন, কর্মচারীদের নানা বিষয়সহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় অনুমোদনের ফাইল আটকে আছে। এছাড়া বর্তমান এমডি বোর্ডকে পাস কাটিয়ে দুই বছরের জন্য চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওয়াসার এমডি সরকারের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের ফুপা। তিনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তদবির করে বোর্ডকে বাইপাস করে বার বার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিতে থাকেন। এটা নিয়েই চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিরোধ ব্যাপক আকার ধারণ করে।
এ নিয়ে এমডির সমর্থিত কর্মচারী ইউনিয়নের একাংশ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তিনি অফিসে এলে তাকে লাঞ্ছিত করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। এ কারণে চেয়ারম্যান বেশ কিছু দিন অফিস করছিলেন না। পরিস্থিতি চরম বৈরি আকার নিলে তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন রহমতুল্লাহ। ২০১২ সালের ৮ মে তিনি ওয়াসায় চেয়ারম্যান পদে যোগদান করেন। কর্ম জীবনে তিনি অত্যন্ত সত্ ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে ওয়াসার একাধিক কর্মচারী-কর্মকর্তা জানান।
ছাত্রজীবনে তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন তিনি।
