২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল। বাংলা ১৪০৮ সালের পহেলা বৈশাখ। রমনার বটমূলে প্রতি বছরের মতো ভোরে শুরু হল ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। কানায় কানায় পূর্ণ রমনা বটমূল। সরাসরি অনুষ্ঠান প্রচার হচ্ছিল বিটিভিতে। সকাল তখন পৌনে আটটা। হঠাত্ মঞ্চের সামনে পর পর কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় গোটা এলাকা। মানুষের ছিন্ন ভিন্ন দেহ পড়ে থাকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। আহতদের আর্তচিত্কারে ভারী হয় ঘটনাস্থল। পণ্ড হয়ে যায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ঘটনাস্থলে নিহত হয় ৯ জন। আহত অবস্থায় ২৩জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির কিছু সময় পরই একজন মারা যায়।
এ ঘটনায় রমনা থানায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। একটি হত্যা, অপরটি বিস্ফোরক আইনে। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ডিবির তত্কালীন সহকারী কমিশনার আখতারুজ্জামান রুনু। তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন আসামিকে ঐ সময় গ্রেফতারও করেছিলেন। পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকার মামলাটি ডিবি থেকে সিআইডিতে পাঠায়। থেমে যায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম। নিহতদের স্বজনরাও বিচারের আশা ছেড়ে দেন। গ্রেফতারকৃত আসামিরা অনেকেই জামিনে মুক্তি পায়। ২০০৭ সালে ( তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে) আবার মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলার সর্বশেষ (সপ্তম) তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর আবু হেনা মো. ইউসুফ ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আর ২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
